ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মেধাবীদের প্রতিশোধ: মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞানের জয়, মাহা নীতির হার

মেধাবীদের প্রতিশোধ: মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞানের জয়, মাহা নীতির হার
×
×

আবদুল এল-সাইয়েদ ও অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ছবি: সংগৃহীত

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:৩১ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী জয়ী হয়েছেন। তাদের হয়ে কাজ করা একটি রাজনৈতিক সংগঠন এই বিজয়কে ‘স্টেম সুইং’ ও ‘মেধাবীদের প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

স্টেম সুইং বলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ঘেঁষা প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের ঝোঁককে বোঝায়। দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবকাঠামোতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ফলাফল হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন (মাহা)’ কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।

দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাট স্বাস্থ্যকর্মী ও বিজ্ঞানীদের নির্বাচিত করতে কাজ করে ‘থ্রি পয়েন্ট ওয়ান ফোর অ্যাকশন’ নামে একটি সংগঠন। এর নির্বাহী পরিচালক এরিক পলিয়াক বলেন, ২০২৬ সাল ছিল মূলত স্বাস্থ্যসেবার নির্বাচন। ফলাফলে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসব ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট যোগ্য।

ইতিহাস গড়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আছেন মিশিগানের আবদুল এল-সাইয়েদ ও সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। তাঁরা দুজনই চিকিৎসক। ১৯৬৯ সালের পর এই প্রথম সিনেটে কোনো ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আসন পেলেন।

আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে ‘রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশন’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিচার্ড বেসার এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ে হতাশ। সংসার চালাতে গিয়ে তারা ক্লান্ত। একই সঙ্গে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বিরক্ত। তারা এমন নেতা চাইছিলেন যারা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের নির্বাচনের আগে তাদের অধিকাংশই ছিলেন রিপাবলিকান। বিষয়টি নিয়ে গবেষণাও হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের চিকিৎসক সদস্যদের ৮৬ শতাংশই ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির।

এবারও ক্ষমতাসীন দল থেকে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত একাধিক প্রার্থী ছিলেন। আইওয়া অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের জন্য মারিয়েনেট মিলার-মিকস ও সিনেটের জন্য লড়েন রজার মার্শাল। দুজনই হেরে গেছেন। আরও তিনজন রিপাবলিকান চিকিৎসকের নির্বাচনী লড়াইয়ের ফল এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বর্তমান চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের সবাই নিজ নিজ আসনে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এরিক পলিয়াক বলেন, বিজ্ঞানে বিশ্বাসী আমেরিকানরা জেগে উঠেছেন। আমরা অন্তত ১০টি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়েছি। চূড়ান্ত সংখ্যা ৩০-এর ঘরে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে।

সিনেটের দুটি ও প্রতিনিধি পরিষদের ২৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা এখনো (শুক্রবার রাত ৮টা) বাকি।

আরও পড়ুন

×