বরিশালের সাবেক ডিআইজির জবানবন্দি
দুজনকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় তৎকালীন এসপিকে ভর্ৎসনা করি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:১২
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ায় জেলার তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহকে ডেকে ভর্ৎসনা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী হুমায়ুন কবির। তিনি পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের তৎকালীন ডিআইজি। জবানবন্দিতে হুমায়ুন বলেন, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও প্রিয় পাত্র ছিলেন এহসানউল্লাহ। পেশার বাইরে গিয়ে তাঁর ফরমায়েশি কাজে এহসানউল্লাহ লিপ্ত ছিলেন।
ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী হুমায়ুন কবির। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন। তাঁর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই জবানবন্দি আমলে নেওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাছে আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে আগৈলঝাড়া এলাকায় ফলবাহী একটি গাড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আগুন দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহর তত্ত্বাবধানে টিপু ও কবিরকে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া থানা এলাকায় তাদের বিচারবহির্ভূতভাবে (ক্রসফায়ার) হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
হাসানাত আবদুল্লাহ ছাড়া মামলার অপর তিন আসামি হলেন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মাহাবুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন ও তৎকালীন এসপি এহসানউল্লাহ। এর মধ্যে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে।
তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি বলেন, সকালে নিজের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একই সঙ্গে তাঁর এ কর্মকাণ্ডের জন্য ভর্ৎসনা করেন। পরে আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকেও ডেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান।
হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ওসি মনিরুল তাঁকে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কবির ও টিপুকে গ্রেপ্তার করলেও এসপির নির্দেশে তাদের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। পরে এসপি তাদের ক্রসফায়ারে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য এতে রাজি না হওয়ায় অন্য থানার পুলিশ সদস্যদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে ওসি তাঁকে জানান। হুমায়ুন আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে এসপি থানায় গিয়ে নিজের নির্দেশনায় সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি নথিভুক্ত করেন। পরে তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।