ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

আদালত বললেন, আসামি জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে

আদালত বললেন, আসামি জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে
×

গাজী নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৯ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪৫

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার গাড়িচালক ওবায়দুরের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের আপসনামা এবং আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। 

এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আসামিপক্ষ শুনানিতে গাজী নজরুলের জামিনে বাদীপক্ষের আপসনামা এবং তার অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানিতে আদালতকে তিনি জানান, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষেরও জামিনে আপত্তি নেই। আসামির জামিনে বাদীর আপত্তি নেই। তাকে জামিন দেওয়া হোক।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, অনাপোষযোগ্য ধারায় আবেদন রয়েছে আপস চাওয়া বেআইনি। তদন্ত চলছে শেষ হলে বলা যাবে, এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা। তবে শুনানি শেষে আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

পরে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামি বয়স্ক। ভিকটিম অতি অল্পবয়স্ক মেয়ে মানুষ। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছে। হাজতবাস পর্যাপ্ত নয়। এই মামলায় আসামি জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। আসামির জামিন নামঞ্জুর করা হলো। ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন

×