১০ হাজার কদম নয়, সুগার নিয়ন্ত্রণে জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটুন
ছবি: সংগৃহীত
শৈলী ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:৫৮
রোগহীন, সুস্থ জীবনের জন্য চিকিৎসকেরা নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দেন। অনেক চিকিৎসক প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটার কথা বলেন। কিন্তু জাপানিরা সুস্থ থাকতে এত কদম হাঁটাকে গুরুত্ব দেন না। এর পরিবর্তে, তাঁরা তাঁদের নিজস্ব এক রহস্য অনুসরণ করেন যা তাঁদের দেশের একশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। এ পদ্ধতি এতটাই কার্যকরী যে, গোটা বিশ্বে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তা লাভ করা ‘জাপানিজ ওয়াকিং মেথড’ বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে। এটি ‘ইন্টারভাল ওয়াকিং ট্রেনিং’ নামেও পরিচিত। এ পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেছে জাপানের শিনশু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।
সাধারণ হাঁটার সময় আমরা একটি নির্দিষ্ট গতিতে হাঁটি, কিন্তু এই জাপানি পদ্ধতিতে হাঁটার গতিতে বৈচিত্র্য আনতে হয়। এর মূল সূত্রটি হল ৩:৩। অর্থাৎ, প্রথম ৩ মিনিট আপনার যতটা সম্ভব দ্রুত হাঁটা উচিত। এই সময়ে আপনার হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকবে। তবে এর মানে এই নয় যে, আপনাকে প্রথম দিন থেকেই ৩ মিনিট খুব দ্রুত হাঁটতে বা দৌড়তে হবে। প্রথম দিন ৩০ সেকেন্ড দ্রুত দৌঁড়ান এবং তারপর ধীরে ধীরে এই সময় বাড়ান।
তিন মিনিট দ্রুত দৌঁড়নো বা হাঁটার পর তিন মিনিট বিশ্রাম নিন। একটি গভীর শ্বাস নিন। তারপর, একই গতিতে আরও তিন মিনিট হাঁটুন বা দৌঁড়ান। আধঘণ্টা ধরে এটি পুনরাবৃত্তি করুন। এটি একটি ধীর গতির দৌঁড়। এতে খুব বেশি অসুবিধা হয় না এবং আপনি এটি বেশ আরামেই করতে পারবেন। আসলে একটানা হাঁটার মতো শারীরিক শক্তি সবার থাকে না। তবে তিন মিনিটের পরিবর্তে, আপনি এটি এক বা দুই মিনিটের বিরতিতেও করতে পারেন। অর্থাৎ, এক মিনিট দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানোর পর এক মিনিট বিশ্রাম নিতে পারেন।
আমরা সাধারণত দিনে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটাকে সর্বোত্তম বলে মনে করি। গবেষণা থেকে জানা যায়, ৩০ মিনিটের বিরতিতে হাঁটলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়। জাপানে মানুষ শতাব্দী ধরে এটি অনুশীলন করে আসছে। যদিও এই অনুশীলন নিয়ে গবেষণা মাত্র কয়েক বছর ধরেই চলছে, তবুও এটি জাপানি সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। সেখানকার মানুষ এ পদ্ধতিকে দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করে নিয়েছে। আর এভাবেই সুস্থ থাকছেন, ওজন, প্রেশার ও সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকছে।
এখন প্রশ্ন হল, এটি ওজন কমাতে কীভাবে সাহায্য করে? এর মূলনীতিটি খুবই সহজ। আপনি যদি শুধু হাঁটেন, তাহলে ততটা ক্যালোরি পুড়বে না। এর পরিবর্তে, যদি আপনি দ্রুত হাঁটেন বা দৌঁড়ান, তাহলে সাধারণ হাঁটার চেয়ে ২০% থেকে ৩০% বেশি ক্যালোরি বার্ন হয়। এর ফলে এই নিয়মে হাঁটলে ওজন দ্রুত কমে।
বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁরা গাঁটের ব্যথায় ভুগছেন, তাঁরাও এটি সহজেই করতে পারেন। যেহেতু এতে খুব বেশি পরিশ্রম বা শক্তির প্রয়োজন হয় না, তাই এটি সহজেই আপনার শরীরের নমনীয়তা এবং শক্তি বাড়াতে পারে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এটি প্রতিদিন করতে পারেন না, তারাও এর থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারেন। সপ্তাহে চার বা পাঁচ দিন অনুশীলন করলেও ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করবেন। এটি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করে। আপনার ফুসফুসের আরও বেশি অক্সিজেন শোষণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: নিউজ১৮
- বিষয় :
- হাঁটা