ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু’ এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে: উমামা ফাতেমা

৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু’ এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে: উমামা ফাতেমা
×

উমামা ফাতেমা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৪৪

সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার চেষ্টা হয়েছে। তার দাবি, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে বাদ দিয়ে শিবির ও ছাত্রশক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে ৫ আগস্টের পর অনেকে এসে আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বেসর্বা হয়ে গেছেন।

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন তা জামায়াতের ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন উমামা ফাতেমা।

পোস্টে তিনি লেখেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা অনেকেই ‘উড়ে এসে নেতা’ হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সালাউদ্দিন আম্মারকে তিনি অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করে।

জুলাই আন্দোলনের সময়কার সমন্বয়ক কমিটি প্রসঙ্গে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ তার ভাষ্য, এর কারণে ৫ আগস্টের পর ‘যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।’

পোস্টে তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের হাতে বন্দী’ করার অভিযোগ তোলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা ফাতেমা। তিনি লেখেন, দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ফেসবুকের ‘ম্যানিপুলেশন’ যথেষ্ট। তার অভিযোগ, ‘পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপ’ সময় সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইয়ের নামে ‘ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট’ তৈরি করে।

তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তৈরি করা ‘হিরো’ বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এমন অনেক ‘ম্যানুফ্যাকচারড ফিগার’ রয়েছে, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দী করার জন্য কাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে উমামা ফাতেমা বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার ক্ষেত্রে ফেসবুক ‘অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জুলাই আন্দোলনের আগে মধ্যবিত্তের রাজনীতিবিমুখতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টিও পোস্টে তুলে ধরেন উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্তের-I hate politics’ থেকে জুলাইয়ে হঠাৎ চোখ ফুটেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যানিপুলেট করে একদিন একজনকে, পরদিন আরেকজনকে ‘হিরো’ বানানো হয়েছে।

পোস্টের শেষে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন সাবেক এই সমন্বয়ক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের যাত্রাপথ এখন জামায়াতের কারণে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করতে হচ্ছে। তার দাবি, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই।’ জামায়াত নিজেদের ‘গণহত্যার কালিমা’ ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×