এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাসদের ক্ষোভ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪৮
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার লক্ষ্যে খসড়া কনসেশন চুক্তি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
শুক্রবার বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ জানান।
তিনি বলেন, খসড়া কনসেশন চুক্তিতে কি কি শর্ত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল তড়িঘড়ি করে বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার জন্য চুক্তি করেছিল। সারাদেশের প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক জনগণের সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, সরকার বিদেশি অপারেটরের নাম প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এ চুক্তি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিনা দরপত্রে যে প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের হাতে এনসিটি তুলে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল এবং নির্বাচিত বিএনপি সরকারও ফ্যাসিবাদী সরকারের নেওয়া জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি পথেই হাঁটছে যা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে শুধু দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থই জড়িত নয়; এর সাথে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ও যুক্ত। সেখানে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে বন্দরের রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশ বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে সরকার বিদেশি পুঁজির স্বার্থে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বিবৃতিতে এনসিটির মত জাতীয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে তা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালনার দাবি জানানো হয়। একইসাথে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া চুক্তি অবিলম্বে বাতিল এবং বন্দর শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।