জামায়াত জোটের লংমার্চ যাবে গোপালগঞ্জ হয়ে, তবে হবে না পথসভা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৫
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া গোপালগঞ্জ হয়ে যাবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি খ্যাত গোপালগঞ্জে পথসভা হবে না। এই জেলা হয়ে বাগেরহাট গিয়ে পথসভা হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চের রুট এবং পথসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
আগের সিদ্ধান্ত ছিল ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনায় লংমার্চ হবে সড়ক পথে। ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথে লংমার্চ হবে। সোমবার ১১ দলের বৈঠক শেষে জানানো হয়, দূর্গা পুজার কারণে এই দুই কর্মসূচি পিছিয়ে যাচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ হবে। ঢাকা-সিলেট লংমার্চ হবে নভেম্বরে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ ৭ দফা দাবিতে লংমার্চ করছে ১১ দল।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শুরু হবে লংমার্চ। সকাল ৮টায় লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া সড়ক দিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। রুট অনুযায়ী পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা পথসভা হবে। এরপর ফরিদপুরের ভাঙ্গা, মাদারীপুরের টেকেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জের দিকে যাবে গাড়িবহর। যদিও শহর থেকে আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত টুঙ্গিপাড়া বেশ দূরে।
জামায়াত জোটের গাড়িবহর গোপালগঞ্জ শহর দিয়ে বাগেরহাটের ফকিরহাট গিয়ে সেখানকার কাটাখালী মোড়ে পথসভা করবে। এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পথসভা হবে। সেখান থেকে খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে আরেকটি পথসভা করার কথা রয়েছে। পরে যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভা শেষে গাড়িবহর ঝিনাইদহ যাবে। জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা হবে। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির পদযাত্রা গোপালগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এই কর্মসূচি ঠেকানোর ঘোষণা দেয়। হামলার জেরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫ জন নিহত হন।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম সমকালকে বলেছেন, চট্টগ্রাম এবং রংপুরের লংমার্চ যেমন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের লংমার্চও তেমন হবে। গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের সঙ্গে জামায়াতের ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট দিয়েছেন দাঁড়িপাল্লায়। তাই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রশ্নই নেই।
লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লংমার্চে কেউ উসকানি বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হলে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ১১ দলের কর্মীরা উসকানিতে পা দেবেন না।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জামায়াত সেক্রেটারি বলেছেন, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের ন্যায্য দাবির প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন রয়েছে। তবে, ভাঙচুর বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য হবে না। চালকদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকারকে বিবেচনা করুক।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তার সঙ্গে আচরণ, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর কুষ্টিয়ায় হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে ১১ দল।
বৈঠকে অংশ নেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আলামিন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- গোপালগঞ্জ
- লংমার্চ