নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়া আত্মঘাতী: সাইফুল হক
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৪১
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও লাভজনক সরকারি স্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, বন্দরের ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই তা করা সম্ভব। মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলা যায় না।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর লিজের সিদ্ধান্ত বাতিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাইফুল হক বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতির অতিসংবেদনশীল লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। বিনিয়োগ ও আর্থিক লাভের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা তথ্যভিত্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরেও যদি একটি রাষ্ট্র তার প্রধান বন্দর পরিচালনায় স্বাবলম্বী হতে না পারে, তাহলে দেশ বা সরকার কীভাবে চলবে? লোকসান ও ভর্তুকির কথা বলে দেশের জ্বালানি খাতও কি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের বিষয় জড়িত থাকায় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরসহ লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও দুর্বৃত্তদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে বিবেচনা করা যাবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে মানুষ যৌক্তিক সময় দেবে, তবে তা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দ্রুত যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ভুল পরামর্শে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি এ পদক্ষেপ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে চাঁদাবাজি, জবরদখল, সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্যে জনজীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্বাচিত সরকারের আমলে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হতে দেওয়া হবে না। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং মীর রেজাউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা আক্তার, সাইফুর রেজা মামুন, সাইফুল ইসলাম ও বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদার প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
- বিষয় :
- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল
- সাইফুল হক