ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই সনদ লঙ্ঘন সরকারবিরোধী দলের সহযোগিতার যোগ্য নয়: বিরোধী দলীয় নেতা

জুলাই সনদ লঙ্ঘন সরকারবিরোধী দলের সহযোগিতার যোগ্য নয়: বিরোধী দলীয় নেতা
×
×

ডিআরইউর মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৩ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:১৫

বিএনপি সরকার জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহহমান। তিনি বলেন, এই সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিল বিরোধী দল। কিন্তু এই সরকারের যোগ্যতা নেই বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের। বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকা বাদ দিয়ে শুধু সরকারদলীয়দের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। 

জুলাই সনদ সাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার ১ বছর: সালতামামি’ শীর্ষক এ মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে এবি পার্টি।

সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি জনগণকে মূর্খ মনে করে এবং অবমূল্যায়ন করে। তারা নিজেদেরই শুধু জ্ঞানী মনে করে। তারা প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে। মন্ত্রীরা সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের ডেকে নিয়ে পদত্যাগে চাপে দিচ্ছে। যাতে দলীয় লোকদের চাকরি দিতে পারে। অথচ চব্বিশে আমাদের সন্তানরা নেমে এসেছিল মেধার অধিকার আদায়ে। 

বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যাবসা নয়। চাকরির এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রটি এখন পুরোপুরি দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে পরিপূর্ণ করতে চায় তারা।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে ২০৩ সরকারদলীয় এমপির ইচ্ছার প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। এর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা (সরকার) বলে, যে এলাকার মানুষ তাদের ভোট দেয়নি বা দেবে না, সেই এলাকায় কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও রংপুরে একই কথা বলে এসেছেন। এটা কি বিএনপির বাবার তহবিল থেকে উন্নয়ন হবে? রাষ্ট্রের কোষাগারে শিশু থেকে শুরু করে সব পেশা ও শ্রেণির মানুষের অবদান।

জামায়াত আরও আমির বলেন, সরকারি দলের ২০৩ সংসদ সদস্যের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকেও সেই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এই বৈষম্যের জন্যই কি এতগুলো জীবন গেল? এ জন্যই কি আমাদের চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল?

শফিকুর রহমান বলেছেন, আট মাসেই রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, হুবহু সেই পথেই এ সরকার হাঁটছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও চুরি-চামাড়ির পরও জনগণ যে কয়টি আসন দিয়েছে, সেই ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন, ইনশাআল্লাহ।

শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগপর্যন্ত বিএনপি মজলুম ছিল। নির্বাচনের পর শপথের দিন থেকেই তারা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে।

বিএনপি ‘পোষা লোকদের’ দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিরোধী দল এত আগে কেন আন্দোলন শুরু করেছে—এমন অভিযোগ করে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি জনগণের গণভোটের মূল্যায়ন করলে সংসদের বাইরে গিয়ে বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে হতো না। তারাই বিরোধী দলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জামায়াত আমির বলেছেন, কথা দিচ্ছি, বিএনপি বদলে গেলেও আমাদের কথা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। আমাদের বহু লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলোর দিকে তাকাইনি, প্রত্যাখ্যান করেছি। যার ইচ্ছা, সে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করুক। কিন্তু হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে এগিয়ে যাবে বিরোধী দল। কোনো ধরনের চোখরাঙানিকে আমরা পরোয়া করব না।

বিরোধী জোট জ্বালাও পোড়াও করবে না বলে জানিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সন্তানেরা চব্বিশে দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালাও-পোড়াও লাগে না। খালি হাতে ঈমানি বল ও দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়। এ পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব এবং নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাদের (বিএনপির) পতন চাইনি; তাদের সফলতা চেয়েছিলাম। কারণ, তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা তাদের নেই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা (বিএনপি) ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বাস্তবে ‘সবার আগে পরিবার, সন্তান, ভাগনে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রীকে’ রাখছে। 

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য দেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য নেতারা।

আরও পড়ুন

×