ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ওয়াদা করে বিএনপির ১৭ প্রতারণা: হাসনাত আবদুল্লাহ

জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ওয়াদা করে বিএনপির ১৭ প্রতারণা: হাসনাত আবদুল্লাহ
×
×

ডিআরইউতে মুক্ত আলোচনায় কথা এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৬ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৮

জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি ১৭ বার প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মূখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই সনদের যেসব সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নত) ছিল না, এর ১৭টি তারা ইতিমধ্যে লঙ্ঘন করে জাতির সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করেছে।

জুলাই সনদ সাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই হাসনাত আবদুল্লাহ। ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার ১ বছর: সালতামামি’ শীর্ষক এ মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে এবি পার্টি।

বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ নোট অব ডিসেন্টসহ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটে অনুমোদিত এই সনদে সংবিধান সংক্রান্ত ৪৮টি মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর ১৯টিতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দলটি জানিয়েছিল এগুলো বাদে বাকিগুলো বাস্তবায়ন করবে। 

হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ ঐকমত্য হয়েছিল এমন ১৭টি সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিদিন জুলাই সনদের একটি প্রতিশ্রুতি ভাঙে, আর আবার দম্ভভরে ঘোষণা দেয়, সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। 

হাসনাত সনদের ১৭টি প্রস্তাব তুলে ধরেন, যেগুলো বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক নম্বর প্রতারণা করেছেন অভিযোগ করে হাসনাত বলেন, পাবলিক গ্রিভেন্স রিড্রেস সেল করার কথা ছিল। এই অধ্যাদেশটাকেও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীতে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার এক ওসি বলছে, ‘থানায় পোস্টিং নিতে গেলে এক-দুই কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই ঘুষ বাণিজ্য আগে পরিচালনা করতেন সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে, এখন করছেন উনার ভাগিনারা।’ কিন্তু ক্ষমতায় এসে স্বাধীন পুলিশ কমিশনের অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বিএনপি। অথচ জুলাই সনদে ঐকমত্য জানিয়েছিল।

স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগকে আলাদা করার প্রস্তাবে বিএনপির নোট ডিসেন্ট ছিল না জানিয়ে হাসনাত বলেন, এটা নির্বাহী আদেশেই করা সম্ভব। কিন্তু আট মাসে বিএনপি উদ্যোগ নেয়নি। যা প্রতারণা নম্বর তিন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, সনদের ৬৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সচিবালয়ে যারা ‘ভোটচুরি’ ও ‘গণহত্যায়’  জড়িত তাদের বিচারের কমিশন হবে। বিএনপি সনদে একমত হলেও তা করেনি। সরকারি ক্রয় এবং নিরীক্ষার তথ্য উন্মুক্তে জুলাই সনদে প্রস্তাব ছিল। তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ পাস না করে বিএনপি প্রতারণা করেছে। বিএনপি নেতারা ছেলের ঠিকাদারি আর ভাইয়ের কাজ ছাড়া কিছুই পালন হচ্ছে না।’

জুলাই সনদের ৬১ নম্বর প্রস্তাবে বিচারকদের ‘রাজনৈতিক আনুগত্যকে’ অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করার কথা থাকলেও বিএনপি তার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দাবি করে একে ৬ নম্বর ‘প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেন হাসনাত। বলেন, সনদে বলা হয়েছে, বিচারক ও কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এই উদ্যোগ না নিয়ে বিএনপি প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ৫২ নম্বর প্রস্তাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হবে। বিএনপির এতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। কিন্তু ক্ষমতায় এসে বিএনপি সচিবালয় বিলুপ্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী পিআর স্ট্যান্ডে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। তিনি বলেন, কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী ও নতুন বিএনপি সেজে বসা ফায়দালোভীদের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংবিধান সংশোধনকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দেন হাসনাত। তিনি বলেন, অতীতে সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছিল। এ কারণেই সংবিধান সংস্কার পরিষদে মাধ্যমে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এই পরিষদের শপথ নেওয়া বিএনপির আরেকটি প্রতারণা। 

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান। বক্তব্য দেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য নেতারা।

আরও পড়ুন

×