ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক হোসেন

দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক হোসেন
×
×

প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি: সাজ্জাদ নয়ন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:১৭ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪১

দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দুই-তিন দিন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত। কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে হেয় করা হয়েছে, দলও বিব্রত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই প্রেসক্লাবে আসেন ইশরাক। এ সময় তার সঙ্গে শত শত নেতাকর্মীকে দেখা যায়।

প্রেসক্লাবে আসার পর নেতাকর্মীরা ইশরাক হোসেনের পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা ‘ইশরাক ভাইয়ের ভয় নাই। রাজপথ ছাড়ি নাই', 'ইশরাক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে' স্লোগান দেন।

এর আগে আজ সকালে এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণার কথা জানান ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল দিনভর তা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।

আরও পড়ুন

×