বিরোধী দলকে চকলেট দিয়ে খুশি করে, তারা বিরিয়ানি খায়: জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীv সংবাদ সম্মেলন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:৫০
সরকারি এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিরোধী দল কথা বললে অন্য খাত থেকে সামান্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিরোধী দলকে চকলেট দিয়ে খুশি করে, আর তারা বিরিয়ানি খায়।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্রশ্ন তুলেছেন, এর জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা যাননি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পরেরদিন গত ১৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে সরকার দলীয় এমপিদের ২০৩ আসনে ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এমপিদের অভিপ্রায়ের প্রকল্পে এই বরাদ্দ ব্যয় করা হবে। বাদ দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের এমপিদের আসন। সম্প্রতি এমপিদের বাছাই করা প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও ৩২৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এতেও বিরোধী দলের আসন বাদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ জামায়াত এমপিদের।
আওয়ামী লীগকে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে সরকার
মঙ্গলবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন সীমান্তের ওপাড় থেকে পয়সা পাঠাচ্ছে। আরেকজন দেশে রাজপথে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
গোলাম পরওয়ার তা নাকচ করে সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, নিজেদের দলীয়করণ, ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকার জন্য সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। বিরোধী দল কখনো ফ্যাসিস্টকে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে না; বরং বিরোধী দলের আন্দোলনকে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই পথ দিয়ে তারাই ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগকে ঢোকার পথ করে দিচ্ছে।
গত কয়েক মাসে তিন মন্ত্রী ও এক এমপির পদত্যাগ সরকারের মধ্যে অস্থিরতার লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য হাস্যকর। দুর্বলতা ঢাকতে মানুষ বিভিন্ন কথা বলে, তবে তারও একটা মাত্রা থাকে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফ্যাসিস্টদের পথ কী, তা জামায়াত আমিরের কাছে জানতে চান। এ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিজম চিনেছে আওয়ামী লীগকে দিয়ে। ফ্যাসিস্ট কী, এ কথা মাত্র সাত মাসের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব রিজভী ভুলে গেছেন। ফ্যাসিস্ট চিনতে হলে তাঁকে দলীয় কর্মীদের কাছে ফেরত যেতে হবে। ফ্যাসিস্টের কাজ ওরা বলতে পারবে।
১৯৯৪–৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে— রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মানতে চায়নি, তখন শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ বিরোধী দলের লিয়াজোঁ কমিটি হয়েছিল। লিয়াজোঁ কমিটির সম্মিলিত কর্মসূচিতে জামায়াতও ছিল। গণবিরোধী অবস্থানের কারণে সেবার বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিএনপির অবস্থানের কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল।
বিএনপি জুলাই থেকে সরে গেছে
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইকে ধারণ করে বলেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন করছে। বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে না বলেই তারা গণভোটকে অস্বীকার করছে।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি যাননি—প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতাকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমন্ত্রণ জানানো হলেও কার্ডে ও অতিথি তালিকায় কোথাও বিরোধীদলীয় নেতারা নাম নেই। তিনি কি সেখানে গিয়ে সাধারণ শ্রোতাদের চেয়ারে বসবেন—এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দল সাহায্য করছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের সাহায্য লাগবে কেন? জনগণ গণভোট দিয়েই সংবিধানে জুলাই সনদ অনুমোদন করে দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকরে বিরোধী দল সহযোগিতায় প্রস্তুত। কিন্তু একদলীয় কমিটি করে সংস্কার না করলে সেই অপকর্মে বিরোধী দল সাহায্য করবে না।
সৌদির ঘটনা কূটনৈতিক ব্যর্থতা
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে আখ্যা দেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাস রয়েছে। বিচারের আগে সরকারের নোটিশে আসার কথা ছিল। সরকারের পক্ষে আইনগত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার দায়িত্ব ছিল ওই দেশের দূতাবাসের। তারা নিজেরা জানেননি, সরকারকেও জানায়নি। যখন বিচার কার্যকর হয়ে গেছে, তখন সরকারের ঘুম ভেঙেছে।
কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতের এমপি আমির হামজার মাহফিল সরকার প্রশাসনিক ক্ষমতা খাটিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তাহলে বিএনপি কোরআনের তাফসির আর ওয়াজ মাহফিল শুরু করুক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
- বিষয় :
- বিএনপি
- জামায়াতে ইসলামী