মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৪ দাবি জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনের
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:৫১
জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে কার্যকর করাসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। ৩০ হাজার মজুরিকে ন্যায্য দাবি আখ্যা দিয়ে জামায়াতের এই শ্রমিক সংগঠন ভাঙচুর, আগুন, নাশকতায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারেরও দাবি করেছে।
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পের সুরক্ষা পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। আবার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমেও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি জানানো হয়, নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা দিতে হবে।
আতিকুর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গ্রেপ্তার করা নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতাদের মুক্তি দিতে হবে। শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিক-মালিক ও সরকারের মধ্যে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় সংলাপ আয়োজন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র এবং উসকানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া, অন্যায় ও বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ খাঁন, কবির আহমদ, ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার, গার্মেন্টস দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাহিদা সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- শ্রমিকদের আন্দোলন
- জামায়াতে ইসলামী