ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ত্বকের আর্দ্রতায় ‘স্কিন ফ্লাডিং’

ত্বকের আর্দ্রতায় ‘স্কিন ফ্লাডিং’
×
×

মডেল: অদিতি

আকলিমা আক্তার

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ত্বকের যত্নে সৌন্দর্য সচেতন নারী কত কিছুই না করেন। ঘরোয়া ডাল, হলুদের পেস্ট, তুলসীর পেস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফেসপ্যাক তৈরি করেন নিজের হাতে। কেউ কেউ সময়ের অভাবে সেদিকে পা বাড়ান না। ছোটেন বাজারের বিভিন্ন সৌন্দর্য পণ্যের দিকে। তবে যেদিকেই হাঁটেন না কেন, উদ্দেশ্য একই। তা হলো ত্বককে কীভাবে কোমল, সতেজ ও উজ্জ্বল করে তোলা যায়। বর্তমানে রূপসচেতন নারী ও তরুণীরা সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া বিউটি হ্যাকসের দিকেও ঝুঁকছেন। ঝুঁকবেন না কেন? কিছুদিন পরপর বিভিন্ন ধরনের বিউটি হ্যাকস জনপ্রিয় হয় সমাজমাধ্যমে। ইনফ্লুয়েন্সার ও তারকারা এর নেপথ্যে কাজ করেন। সব ট্রেন্ড যে সবাই গ্রহণ করে তা নয়। তবে ২০২৬ সালে সবচেয়ে বেশি রূপচর্চার যে ধারাটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তা হলো ‘স্কিন ফ্লাডিং’। কাচের মতো স্বচ্ছ ত্বক পেতে সৌন্দর্যচর্চার এ ধারাটি কাজ করে। স্কিন ফ্লাডিং মূলত ত্বককে একসঙ্গে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বা হাইড্রেশন দেওয়ার একটি পদ্ধতি। এতে সাধারণত হালকা, পানিভিত্তিক কয়েকটি পণ্য স্তরে স্তরে ব্যবহার করা হয়, যেন ত্বক দীর্ঘসময় আর্দ্র থাকে। এটি বিশেষ করে ডিহাইড্রেটেড ও শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের কাছে জনপ্রিয়। 
স্কিন ফ্লাডিংয়ের লক্ষ্য ত্বকের ভেতরে যতটা সম্ভব আর্দ্রতা প্রবেশ করানো এবং সেটিকে ধরে রাখা। এ জন্য প্রথমে মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। মুখ হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ওয়াটারবেসড পণ্য যেমন টোনার, এসেন্স, সিরাম দিতে হবে। অ্যালকোহলমুক্ত, হিউমেকট্যান্টযুক্ত টোনার বা এসেন্স ব্যবহার করুন। যেমন হায়ালুরোনিক এসিড, গ্লিসারিন, প্যানথেনল ইত্যাদি। এরপর একটি ভালো মানের সিরাম লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। রাতের রূপচর্চায় রেটিনলভিত্তিক অ্যান্টি-অ্যাজিং সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। সকালে ভিটামিন-সি সিরাম ব্যবহার করলে উপকার মেলে। এবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকে একটু সমৃদ্ধ ক্রিম, তৈলাক্ত ত্বকে হালকা জেল-ক্রিম উপযোগী হতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন ক্রিম লাগান আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য। এসপিএফ ৩০-৫০যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। স্কিন ফ্লাডিংয়ে একটির পর একটি পণ্য ধাপে ধাপে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ হালকা থেকে ভারী টেক্সারের দিকে যাওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, সানস্ক্রিন ব্যবহারের পর ফেস পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন। তবে এর বেশি কিছু নয়। রূপবিশেষজ্ঞ ও বিউটি ইনফ্লুয়েন্সাররা মনে করেন, রূপচর্চার এ ধারাটি ত্বককে দীর্ঘসময় আর্দ্র ও সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে। সাধারণত সকাল কিংবা রাতের রূপরুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে এটি। 
স্কিন ফ্লাডিংকে কোরিয়ান রূপচর্চার একটি ছোট অংশ বলা যায়। এখনকার তরুণীদের কাছে কে বিউটির জনপ্রিয়তায় শীর্ষে। এর মূল কারণ কোরিয়ানরা ত্বকের আর্দ্রতা ও গ্লাস স্কিনকে বেশি প্রাধান্য দেয়। মেকআপের মাধ্যমে ত্বকের বিভিন্ন খুঁত ঢাকার বদলে প্রাকৃতিক রূপচর্চার মাধ্যমে ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, যেন ত্বক গভীর থেকে পুষ্টি পায়। সেইসঙ্গে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার ওপরও জোর দেওয়া হয়। ‘স্কিন ফ্লাডিং’-এর বিষয়টিও ঠিক তাই। ত্বকের সৌন্দর্যের প্রতি যত্নবান হওয়া, ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ করা। সঠিকভাবে যত্ন নিলে ত্বক আগের চেয়ে প্রাণবন্ত, সতেজ ও উজ্জ্বল হবে। 
কাদের জন্য উপকারী
‘স্কিন ফ্লাডিং’ সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। কেননা সৌন্দর্যচর্চার এ ধারায় ত্বকে বেশি পানিজাতীয় পণ্য যুক্ত করা হয়। তাই এ পণ্যগুলো শুষ্ক, রুক্ষ ত্বকের অধিকারীদের জন্য যতটা উপকারী হবে–তৈলাক্ত, নাজুক ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য ততটা উপকারী হবে না। কারণ তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে অতিরিক্ত লেয়ারিং সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে একটা বিষয় মনে রাখা ভালো, স্কিন ফ্লাডিং মানেই যত বেশি পণ্য, তত বেশি হাইড্রেশন বা সতেজতা নয়। অনেক স্তর একসঙ্গে ব্যবহার করলে কারও কারও ত্বকে ভারী লাগা, ব্রণ বা জ্বালা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অল্প পণ্য ব্যবহার করতে হবে। 

আরও পড়ুন

×