ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

শারদ উৎসবে ছেলেদের সাজ

শারদ উৎসবে ছেলেদের সাজ
×
×

দিনের বেলা ঘোরাঘুরিতে সুতির পাঞ্জাবি স্বস্তিদায়ক। মডেল: দ্বীপ, পোশাক: জ্যোতি। ছবি: নাজমুল হোসাইন হিমেল

ঈষিতা হোসেন তানিয়া

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

পূজার দিনগুলোয় পাঞ্জাবিই সবার প্রথম পছন্দ। এর পাশাপাশি ফতুয়া, কুর্তা, শার্ট থেকে শুরু করে ধুতি কিংবা ট্রাউজার– সঠিকভাবে মিলিয়ে নিলে প্রতিটি পোশাকে তৈরি করা যায় আলাদা উৎসবের লুক। 

ষষ্ঠী বা সপ্তমীর দিনে হালকা রঙের পাঞ্জাবি হতে পারে চমৎকার পছন্দ। সাদা, অফ-হোয়াইট, ক্রিম, বেইজ কিংবা প্যাস্টেল শেডের পাঞ্জাবি দেখতে যেমন পরিপাটি, তেমনি উৎসবের আবহের সঙ্গেও মানানসই। এর সঙ্গে সাদা বা কাছাকাছি শেডের পায়জামা রাখলে সাজে আসে ক্ল্যাসিক সৌন্দর্য। যারা একটু আধুনিকভাবে ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করতে চান, তারা পাঞ্জাবির সঙ্গে সোজা কাটের ট্রাউজার বা কটন প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। 

অষ্টমীর দিন একটু বেশি উৎসবমুখর সাজ বেছে নেওয়া যেতে পারে। এদিন পাঞ্জাবির রঙে আসতে পারে কিছুটা বৈচিত্র্য। মেরুন, বোতল সবুজ, রয়্যাল ব্লু, মাস্টার্ড, টেরাকোটা কিংবা ডিপ অলিভের মতো রংগুলো উৎসবের আমেজকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। পাঞ্জাবিতে হালকা এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট, জ্যামিতিক মোটিফ বা সূক্ষ্ম নকশা থাকলে সাজে আলাদা মাত্রা যোগ হয়। তবে নকশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি ভারী কাজের পরিবর্তে পরিমিত ডিজাইনই বেশি রুচিশীল দেখায়। 

মডেল: সম্রাট

যারা পাঞ্জাবির বদলে একটু ক্যাজুয়াল থাকতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ফতুয়া হতে পারে দারুণ বিকল্প। সুতির বা লিনেনের ফতুয়া পূজার দিনের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য বেশ আরামদায়ক। সাদা ফতুয়ার সঙ্গে ডেনিম বা কটন ট্রাউজার যেমন স্মার্ট দেখায়, তেমনি প্রিন্টেড ফতুয়ার সঙ্গে সলিড রঙের প্যান্ট রাখলেও তৈরি হয় সুন্দর ভারসাম্য।

নবমী কিংবা দশমীর দিনে যারা একটু ফিউশন লুক পছন্দ করেন, তারা শার্টের সঙ্গে ধুতি বা ওয়াইড-লেগ প্যান্ট পরতে পারেন। একরঙা লিনেন বা কটন শার্টের সঙ্গে ধুতি দিলে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে আসে আধুনিকতার ছোঁয়া। আবার কুর্তার সঙ্গে স্লিম ট্রাউজার, লোফার ও একটি স্টেটমেন্ট ঘড়ি দিয়েও তৈরি করা যায় পরিপাটি ফিউশন লুক। 
ক্রেতার চাহিদার কথা চিন্তা করে বরাবরের মতো এবারের পূজাতেও নতুন নতুন পোশাক নিয়ে এসেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো। ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানান, পূজার পোশাকে এবার খুব ভারী কাজের বদলে আরামদায়ক কাপড়, পরিমিত নকশা ও পরিপাটি কাটের দিকে ঝোঁক বেশি। দিনের বেলায় মণ্ডপে ঘোরাঘুরি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্য হালকা পাঞ্জাবি বা ফতুয়া হতে পারে স্বস্তিদায়ক। সন্ধ্যার আয়োজন বা অষ্টমী-নবমীর বিশেষ সাজে একটু গাঢ় রঙের পাঞ্জাবি বেছে নেওয়া যায়।

এবারের পূজায় ফ্যাশন হাউস ‘লা রিভ’ নিয়ে এসেছে ব্যাম্বু কটন ও জ্যাকার্ডের এক্সক্লুসিভ ফেব্রিকে তৈরি পাঞ্জাবি। আরও আছে টুইন-ফিটেড, প্রিন্টেড কটন ও ভিসকস পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে থাকছে ওয়েস্ট কোট, ক্ল্যাসিক আলীগড়, প্রিমিয়াম প্যান্ট ও অ্যাঙ্কেল লেংথ পায়জামা। এ ছাড়া উৎসবের জন্য আলাদাভাবে ডিজাইন করা হয়েছে প্রিমিয়াম ফেব্রিকের ট্রেন্ডি শার্ট, টি-শার্ট ও পোলো শার্ট। 

ফ্যাশন হাউস ‘টুয়েলভ’-এ পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জাবির বাহারি সংগ্রহ। কোথাও গোলগলার ছোট পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, কোথাও দীর্ঘ পাঞ্জাবিতে নকশার সূক্ষ্ম ব্যবহার দৃষ্টি কাড়ছে ক্রেতাদের। প্রতিষ্ঠানটির সংগ্রহে গাঢ় লাল, মেরুন, নীল, সাদা, বাদামি, হলুদ ও মাটিরঙা পোশাকের পাশাপাশি হালকা রঙের পাঞ্জাবিও রয়েছে। 
ফ্যাশন হাউস ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর এবারের পাঞ্জাবির নকশায় ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহকে তুলে ধরা রয়েছে। শুধু পূজার কয়েকটি দিনের জন্য নয়, উৎসব শেষ হলেও যাতে পাঞ্জাবিগুলো পরা যায়, নকশায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি দৈনন্দিন পরার উপযোগী শার্ট, টি-শার্ট ও ফতুয়ার মতো পোশাকও রঙ বাংলাদেশের পুরুষদের সংগ্রহে রাখা হয়েছে।

পূজার সাজ মানেই যে প্রতিদিন নতুন পোশাক পরতেই হবে, এমনও নয়। একই পাঞ্জাবি ভিন্ন পায়জামা, ট্রাউজার, জুতা বা অ্যাকসেসরিজের সঙ্গে মিলিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা লুক তৈরি করা যায়। এতে যেমন পোশাকের ব্যবহার বাড়ে, তেমনি স্টাইলেও আসে বৈচিত্র্য। 

আরও পড়ুন

×