ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঘরে উৎসবের ছোঁয়া

ঘরে উৎসবের ছোঁয়া
×
×

দেশীয় উপকরণ ব্যবহারে ঘরে আনতে পারেন পূজার আবহ

রোজী আরেফিন  

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই নতুন পোশাক, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা, প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরি আর চারদিকে উৎসবের আমেজ। ঘরের সাজেও যদি একটু পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়ে। তবে পূজার জন্য ঘর সাজাতে অনেক টাকা খরচ করে নতুন আসবাব বা দামি শোপিস কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা জিনিসগুলোর জায়গা বদলে, ফুল, আলো, রঙিন কাপড় আর পছন্দের কিছু সাজসজ্জার উপকরণ দিয়েই ঘরে আনা যায় উৎসবের ছোঁয়া। 

দরজায় পূজাকে স্বাগত জানান! 
বাড়িতে ঢুকেই যেন উৎসবের আমেজ অনুভব করা যায়, সেদিকে নজর দিতে পারেন মূল দরজার সাজে। দরজার দুই পাশে ছোট টবে ফুলের গাছ রাখা যেতে পারে। দরজায় ঝোলানো যায় ফুলের মালা, পুঁতির তৈরি ঝুল বা কাপড়ের তৈরি তোরণ। চাইলে কাগজ কিংবা কাপড় দিয়ে নিজের পছন্দমতো তোরণ তৈরি করে নিতে পারেন। দরজার সামনে ছোট আলপনা আঁকলেও সুন্দর দেখাবে। যারা রং দিয়ে আলপনা আঁকতে চান না, তাঁরা আলপনার স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন। 

বসার ঘরে রঙের ছোঁয়া! 
অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা জমে ওঠে বসার ঘরেই। উৎসেবের আমেজ আনতে সোফার কুশনের কভার বদলে উজ্জ্বল রঙের কভার ব্যবহার করতে পারেন। লাল, সাদা, হলুদ, কমলা কিংবা মাটির রং উৎসবের সাজে মানিয়ে যায়। সোফার হাতলে বা এক পাশে সুন্দর একটি নকশার কাপড় রাখলেও ঘরে নতুনত্ব আসবে। এছাড়া জানালার পর্দাগুলোও দিতে পারেন উজ্জ্বল লাল, হলুদ, কমলা বা গোলাপি রঙের! 
সারা বছর তো নানান পেন্টিং, নানারকমের শোপিস দিয়ে ঘর সাজিয়ে থাকেন। পূজার সময় ঘর সাজাতে ব্যবহার করতে পারেন মাটির ফুলদানি, মাটির ঝাড় এবং মাটির বিভিন্ন শো পিস। এতে নতুনত্ব আসবে। সেন্টার টেবিলের ওপর ছোট ফুলদানি, কয়েকটি তাজা ফুল রাখা যেতে পারে। কাঠের ট্রেতে ফুলদানি, ছোট মোমবাতি ও একটি সাজানো বাটির সমন্বয়ও সুন্দর দেখায়। 

পূজার স্থানটি থাকুক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য 
বাড়িতে পূজার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে সেটিও সাজিয়ে নিতে পারেন। জায়গাটি পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখুন। ফুল, ধূপদানি, প্রদীপ ও পূজার অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য ছোট ট্রে ব্যবহার করতে পারেন। পাশে তাজা ফুলের ছোট পাত্র বা পরিচ্ছন্ন কাপড়ের আসন সাজে নতুনত্ব আনবে। 

বারান্দাটাও একটু গুছিয়ে নিন 
বারান্দা বড় হোক বা ছোট, অল্প কিছু উপকরণেই সেখানে তৈরি করা যায় সুন্দর একটি উৎসবের কোণ। কয়েকটি টবে ফুলের গাছ, একটি ছোট মোড়া কিংবা কাঠের স্টুল এবং উষ্ণ আলোর ব্যবস্থা থাকলে যথেষ্ট। চাইলে পুরোনো কাচের বোতলে ফুল রেখে বা অব্যবহৃত কাঠের বাক্সকে গাছ রাখার স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। 

ফুল আর আলোয় ফুটুক উৎসবের আবহ 
পূজার সাজে মানেই আলো আর ফুলের মেলা! ঘরের কোণে, জানালার পাশে কিংবা শেলফের নিচে উষ্ণ রঙের ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করতে পারেন। জানালার পর্দায় ফুলের মালা ঝুলিয়ে দিলে দেখতে সুন্দর লাগে। দরজায় গাঁদার মালা, টেবিলে তাজা ফুলের ফুলদানি কিংবা বারান্দায় ছোট লণ্ঠন ঘরে উৎসবের আমেজ আনবে। 
আগেকার দিনের পূজার সাজের আবহ আনতে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় মাটির প্রদীপও ব্যবহার করতে পারেন। পূজার স্থানে ধূপ জ্বালালে তার পরিচিত সুগন্ধে পরিবেশে যোগ হয় ভক্তি ও স্নিগ্ধতা। তবে প্রদীপ ও ধূপ জ্বালানোর সময় পর্দা, ফুলের মালা ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। 

দেশীয় উপকরণে দিন ঐতিহ্যের ছোঁয়া 
পূজার সাজে দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করলে ঘরে ঐতিহ্যবাহী আবহ তৈরি হয়। বাঁশ, বেত, পাট, কাঠ ও মাটির তৈরি জিনিস দিয়ে ঘরের বিভিন্ন জায়গা সাজানো যেতে পারে। বেতের ঝুড়িতে ফুল রাখা, পাটের টেবিল রানার বিছানো কিংবা কাঠের শেলফে মাটির ফুলদানি সাজিয়ে রাখলে ঘরে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।  ডাইনিং টেবিলে পাটের বা ম্যাক্রামের রানার ও ম্যাচিং প্লেসম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। তার ওপর ছোট ফুলদানি কিংবা ফলের বাটি রাখলে উৎসবের সাজে যোগ হবে পরিপাট্য। জানালার পাশে পাটের দড়ির তৈরি শিকা বা প্লান্ট  হ্যাঙ্গারে ছোট গাছ রাখলেও সুন্দর দেখাবে। এ ধরনের উপকরণ শুধু পূজার সময় নয়, সারা বছরই ঘরের সাজে ব্যবহার করা যায়। v
 

আরও পড়ুন

×