যুবরাজ রূপে অভিষেকের আবির্ভাব
ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। ছবি: ফাইল
সুমন মেহেদী
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:২৮
‘সবাই বল এভাবে ঠেকায় কেন?’ শৈশবে প্রশ্নটা বাবাকে করেছিলেন অভিষেক শর্মা। উত্তরে তাঁর বাবা এবং জীবনের প্রথম কোচ রাজকুমার শর্মা বলেছিল, ‘বলের জন্মই মারার জন্য। জানি না, সবাই কেন ঠেকায়। তবে বল মারার হলে মারাই উচিত।’ অমৃতসরে নিজের ছোট্ট একাডেমিতে ‘মারাই উচিত’ এই সংজ্ঞায় ছেলে অভিষেককে ক্রিকেট শিখিয়েছেন তিনি। যে সংজ্ঞা আরও শুদ্ধ ও সুন্দর করেছেন যুবরাজ সিং। শৈশবের নায়ক যুবিকে গুরু হিসেবে পেয়ে নতুন রূপে অভিষেকের আবির্ভাব হয়।
গল্পের ঝাঁপি খুলে দিয়ে ছেলে অভিষেককে নিয়ে রাজকুমার বলেন, ‘করোনাকালে অভিষেককে ডেকেছিলেন যুবরাজ। অভিষেকের উচ্ছ্বাস তখন দেখে কে। আইডলকে শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না। যুবরাজ তার ব্যাটিং স্ট্যান্স, কাঁধের অবস্থান, গফল সুইং (ব্যাট চালানোর ধরণ) নিয়ে কাজ করেন। ওই ট্রেনিংয়ের পর অভিষেক পূর্ণতা পায়, শট খেলার দুয়ার উন্মুক্ত হয়।’
যুবরাজের সঙ্গে অনুশীলনের পর আইপিএলে নতুন এক অভিষেককে দেখা যায়। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন তিনি। সুযোগ আসে ভারতীয় দলে। মাত্র ২২ আন্তর্জাতিক টি২০ খেলে দুই সেঞ্চুরি ও চারটি ফিফটি করেছেন। এর চেয়ে বড় কথা ১৯৭.৭২ স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন। এশিয়া কাপেও অভিষেকের ব্যাটে উড়ছে ভারত। পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটিতে ২৪৮ রান করেছেন। ১৮৭.৫০ এর নিচে নামেনি স্ট্রাইকরেট। আইসিসির টি২০ ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন আগেই।
এই অভিষেক আলোয় আসার আগে কিংবদন্তি সব খেলোয়াড় ও কোচের সান্নিধ্য পেয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১২ থেকে ১৬ পর্যায়ে অরুণ বেদির ক্লাস করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৬তে শুভমান গিলও ছিল একসঙ্গে। বেদি তখন বলেছিলেন, ‘অভিষেক আর গিল ভারতের জার্সিতে একসঙ্গে ওপেনিংয়ে নামবে।’ এবারের এশিয়া কাপে বেদির সেই বাণী ফলেছে। সত্যি হয়েছে কপিল দেবের কোচ দেশপ্রেম আজাদের বাণীও, ‘অভিষেক শুধু ভারতের হয়ে খেলবে না, ম্যাচ একপেশে বানিয়ে ছাড়বে।’
বেদি ও আজাদের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণ করতে শুধু যুবরাজ নয় অভিষেকের পেছনে যুব পর্যায়ে শ্রম দিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো কিংবদন্তি। আইপিএলের সুবাদে রিকি পন্টিং ও ব্রায়ান লায়ার ক্লাসও করেছেন। এসব গল্প বলতে বলতে রাজকুমার ফিরে যান ছেলে অভিষেকের চার বছর বয়সের স্মৃতিতে, ‘প্রথম ব্যাট কিনে দেওয়ার পরে বড় দুই বোন আর ওর মাকে বিশ্রাম দিত না, সারাক্ষণ তাকে বল করতে হতো। এক পর্যায়ে আমার একাডেমিতে যাওয়ার বায়না ধরল, বড়দের সঙ্গে ট্রেনিং নিতে শুরু করল।’
আবার ১৩ বছরের স্মৃতিতে ফিরে বলেন, ‘ওর প্রথম অর্জন দুইশ রুপির একটি চেক। দাদির কাছে গিয়ে বলল- মন্দিরে প্রসাদ দিও দাদি।’ অভিষেকের দাদি আর বেঁচে নেই। তবে তাঁর বিশ্বাস বেঁচে আছে, ‘ও একদিন অনেক নাম করবে।’ রাজকুমার বলেন, ‘অভিষেকের চোখে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে চমকানো বিশ্বাস খেলা করে। ঘরের ছোট্ট মন্দিরে ব্যাট তুলে রাখে সে। আমি তাকে বলি, এই যে স্টেডিয়াম, এটাই একটা মন্দির, এটা গুরুদুয়ারা। একে সম্মান করো, সম্মান ফেরত আসবে।’
- বিষয় :
- অভিষেক শর্মা
- এশিয়া কাপ
