ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অভিষেকের তাপ নাকি শাহিনের তেজ

অভিষেকের তাপ নাকি শাহিনের তেজ
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:০০

অধিনায়ক সূর্যকুমারের চোখে তিনি হলেন দলের ‘আগুন’। তাঁর ওপেনিংয়ের সঙ্গী শুভমান গিল হলেন ‘বরফ’। এই ‘আগুন-বরফ’ জুটি দিয়েই এ পর্যন্ত এশিয়া কাপে দাপট দেখিয়ে চলেছে ভারত। ছয়টি ম্যাচে ৩০৯ রান করেছেন অভিষেক স্ট্রাইকরেট ২০৪.৬৩ রেখে! চার হাঁকিয়েছেন ৩১টি, ছক্কা গুনে গুনে ১৯টি! চণ্ডীগড়ের ছেলে অভিষেক শর্মা যে ঠিক কতটা তেতে রয়েছেন, তা তাঁর টানা তিনটি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসগুলোতেই স্পষ্ট। তবে ভালো হলেও আজ শ্রেষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালের মতো মঞ্চে আজ যদি তিনি এই তেজ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে ইতিহাস স্মরণ করবে তাঁকে। গ্রুপ পর্বে যেদিন বাইশ গজে হারিস রউফের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল অভিষেকের, তারপর হারিস খোঁচা দিয়েই বলেছিলেন– ‘বাচ্চা ছেলে, আগে বড় বড় দলের সঙ্গে বড় মঞ্চে খেলুক। তারপর না হয় কথা বলো।’
 
অভিষেকের তাপ কিন্তু তারপরও কমেনি, বরং বেড়েছে। সুপার ফোরে সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই ৩৯ বলে ৭৪ করেছেন। তবে আজ ভারতের এই অভিষেকের সমাপ্তি করতে চাইবে পাকিস্তান। জ্বলে ওঠার আগেই তাঁকে নিভিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি তারকা পেসার শোয়েব আখতার। এবং সে জন্য শাহিন শাহ আফ্রিদিকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। ‘অভিষেক প্রতিদিনই তো আর বিস্ময় উপহার দেবেন না। তাঁর ব্যাটে মিস টাইমিং হবেই। শুরুর দুই ওভারের মধ্যেই যদি তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ভারতের ব্যাটিং ধসও নামানো যাবে। সেটি করতে পারেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ফাইনালে যিনি বরাবরই তাঁর তেজে ফিরে আসেন।’ পিটিভি স্পোর্টসের ‘গেম অন’ অনুষ্ঠানটিতে এশিয়া কাপের ফাইনালে অভিষেক বনাম আফ্রিদির খেলাটিকেই টার্নিং পয়েন্ট মনে করছেন শোয়েব আখতার।

যদিও শাহিন শাহ আফ্রিদি এবারের আসরের শুরু থেকে সেভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। তবে টুর্নামেন্টের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আফ্রিদির ধারও যেন বেড়েছে। সুপার ফোরের শেষ দুটি ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। পাওয়ার প্লের মোক্ষম সময়েই উইকেট নিয়েছেন। তবে ভারতের বিপক্ষে আসরের দুটি ম্যাচে একেবারেই ভালো করেননি। ৫.৫ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন ৬৩। তবে এই আফ্রিদিই এই দুবাইতে ২০২১ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটিং ধস করিয়েছিলেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান কেএল রাহুল, রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলির উইকেট নিয়ে। তার পর থেকে আফ্রিদি দুটি দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ইকোনমিতে বোলিং করেছেন; যার একটি অস্ট্রেলিয়া, অন্যটি ভারত। ৯.০৬ আর ৮.৮০ রান দিয়েছেন দল দুটির বিপক্ষে প্রতি ওভারে। 

ভারতের কাছে জোড়া হারের পর তাই পাকিস্তানি সাংবাদিকদের সমালোচনার তীর ছিল আফ্রিদিকে ঘিরে। তাদের ধারণা, আগের মতো সেই আগ্রাসী ভাবটা নেই আফ্রিদির। তবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানি এই পেসার নিজের চেনা রূপে ফিরে এসেছেন। অপেক্ষা আজ তাঁর শুরুর দুটি ওভারের মধ্যেই অভিষেক শর্মাকে ডাগআউটে পাঠানো। যদিও এই আসরে আগের দুটি ম্যাচে আফ্রিদিকে বরং পাল্টা আঘাত করেছেন অভিষেক। প্রথম ম্যাচে তাঁর প্রথম দুটি বলেই চার আর ছক্কা। সুপার ফোরের ম্যাচেও প্রথম বলেই ছক্কা। আজও যে তিনি শুরু থেকেই আগুন হয়ে থাকবেন, নিঃসন্দেহে বলা যায় তা। 

আফ্রিদিও সুযোগ নেবেন তাঁর সুইং আর গতি দিয়ে যে কোনোভাবেই অভিষেকের কোনো মিস টাইমিংয়ের। লড়াইয়ের মধ্যে লড়াইটা জমতে পারে বেশ। যেমনটা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ভারতের বোলিং কোচ মরনে মরকেল, ‘শাহিন অবশ্যই আগ্রাসী এক বোলার, যে কিনা আপনাকে শুরুতেই আঘাত করতে চাইবে। তবে আমাদের অভিষেকও জানে, তাকে কীভাবে রুখে দিতে হয়। একজন ক্রিকেট সমর্থক হিসেবে দুজনের এ লড়াই দেখার জন্য সবাইকে সিট বেল্ট বেঁধে নিতে হবে ফাইনালে।’

আরও পড়ুন

×