ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্ট্রেইট ড্রাইভ

আর কতটা খারাপ হলে ‘খুব খারাপ’ হয়

আর কতটা খারাপ হলে ‘খুব খারাপ’ হয়
×

মেহেদী হাসান মিরাজ। ছবি: ফাইল

সঞ্জয় সাহা পিয়াল

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৮:৩২ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৮:৪৮

স্কুলে থাকতে একটা ট্রান্সলেশন করতে গিয়ে গুলিয়ে যেত সবকিছু। ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল, আর ডাক্তার আসিবার পর রোগীটি মারা গেল। দুটোতেই একটা ব্যাপার কমন ছিল– ‘রোগী মৃত’। তা সেদিন আফগানদের কাছে ২০০ রানে হারার পর মেহেদী হাসান মিরাজের কথা শুনেও মনে সেই পুরোনো দ্বিধা। ‘আমরা এতটা খারাপ দলও না, যত বেশি খারাপ আমরা খেলেছি।’ 

যে দল সিরিজের তিন ম্যাচের কোনোটিতেই ৫০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারেনি, ১৯০ রান তাড়া করতে নেমে ১০৯ রানে অলআউট হয়েছে, ইব্রাহিম জাদরান যে ম্যাচে একাই ৯৫ রান তুলেছেন, সেই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সবাই মিলে ৯৩ রান তুলেছেন! বছরে আটটি ওয়ানডের সাতটিতেই হেরেছে– সেই দল আর কতটা খারাপ করলে ‘খুব খারাপ’ বলা যায়? বিক্ষিপ্ত মন জানতে চায় তা মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে। 

জানি উত্তরটা তাঁর মতোই তৈরি– ‘আশা করি, নেক্সট সিরিজ থেকেই সেটা (ঠিক) হতে পারে।’ আফগান সিরিজে মুচড়ে ফেলা অপ্রয়োজনীয় কাগজটাকেই যেন টেবিলে ফেলে হাত দিয়ে সমান করার চেষ্টা মিরাজের। দুদিন বাদেই শনিবার থেকে প্রিয় আঙিনা মিরপুরে উইন্ডিজের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। আবার জমবে মেলা বটতলা হাটতলা! 

বাপুরাম সাপুরের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ঘরের মাঠে পেয়ে ‘আয় আজ দেখে নেব তোদের’ বলে ঠান্ডা করা যাবে। তার পর অতিথি আয়ারল্যান্ড– বছর শেষে হালখাতাটা নেহাত মন্দ যাবে না। শুধু আর কটা দিন সবুর করুন– রসুন বোনা হচ্ছে! 

এমনিতেই টি২০ দেখতে দেখতে অভ্যস্ত চোখে ওয়ানডে এখন ভারি বিরক্তির। তার ওপর দিন দিন মোহিত করছে হামজা-শমিতদের গতিময় ফুটবল। আবুধাবি নয়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হংকং। সেখানে বাংলাদেশের ড্র ম্যাচটির পর আবুধাবির খালি গ্যালারির সামনে নাঈম শেখ আর তাওহিদ হৃদয়দের ক্রিকেট বড্ড অন্ধকারে ঢুবে ছিল। এমন নয় যে, অতীতে বাংলাদেশ দল একশর নিচে কখনোই অলআউট হয়নি কিংবা তারা হোয়াইটওয়াশও হয়নি। 

২০১৪ সালেও ১৩ ম্যাচের পর ওয়ানডেতে জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিরাজের এই ওয়ানডে দলের অ্যাপ্রোচ আর টেকনিক নিয়ে ভীষণভাবে হতাশ সমর্থকরা। হাবিবুল বাশার সুমনদের সময় কালেভদ্রে র‍্যাঙ্কিংয়ের বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয় আসত, কিন্তু তখনও তাদের মধ্যে টেকনিকের সীমাবদ্ধতা নিয়েই লড়াকু মানসিকতা থাকত। প্রজন্ম বদলের পর দলগুলোর মধ্যে টেকনিক আর দায়িত্ববোধ দেখা গেছে। যে কারণে হারলেও দর্শকরা তাদের ম্যাচগুলো আপন করে নিয়েছেন।

কিন্তু মিরাজের এই দলটি সাজানোই হয়েছে টি২০র ভ্রম দিয়ে। যেখানে কোনো ব্যাটসম্যান হয়তো কুড়িটি বলের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিয়েছেন, সেই তাঁকেই কিনা ওয়ানডেতে এসে লম্বা সময় থাকার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে– যাতে তিনি মোটেই স্বাছন্দ্য নন। জাকের আলী, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেনরা যার উদাহরণ। অফ সাইডে ভীষণভাবে দুর্বল তাদের টেকনিক। ফ্রন্টফুটেও শট খেলতে দেখা যায় না তাদের কাউকে। অবশ্য এই যতটা না ব্যাটসম্যানের, তার চেয়েও ঢের বেশি নির্বাচকদের। সেই সঙ্গে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটিরও।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপিএল তাদের কাছে যতটা আহ্লাদের, ততটাই দায়সারা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। ৫০ ওভারের সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যেও একটা গা-ছাড়া ভাব রয়েছে। দুয়েকটি দল ছাড়া কেউই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য টাকা খরচ করে না। 

পুরোনো চেনা মুখের সঙ্গে কিছু সুপারিশের ক্রিকেটারদের দিয়ে দল গড়তে দেখা যায় বেশির ভাগ ঢাকাইয়া ক্লাবকে। তার ওপর এমন সময় টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ায়, যখন জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটারই তাতে অংশ নিতে পারেন না এবং বেশির ভাগই রমজান মাসে। গত কয়েক বছর যেখানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে খেলতে হয় দলগুলোকে। মিডিয়ারও আগ্রহ থাকে না এই টুর্নামেন্টে। তাই বিকেএসপির কোনো মাঠে নাঈম শেখ সেঞ্চুরি করলে শুধু স্কোরবোর্ড দেখেই ম্যাচ রিপোর্ট করা হয়।

আগে যেখানে ভালো মানের বিদেশি খেলতে আসতেন, সেখানে এখন স্থানীয়দের দিয়েই কোনো রকম দল গড়ে ক্লাবগুলো। তবে ২০২৭ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে এখনই সময় মিরাজের দলটিকে ঢেলে সাজানোর। টি২০ নয়, প্রয়োজনে টেস্ট দলের অভিজ্ঞ আর টেকনিক্যালি সাউন্ড ক্রিকেটারদের একবার হলেও ওয়ানডেতে ফের বাজিয়ে দেখা। তাহলে হয়তো ডাক্তার আসিবার আগে রোগীটি আর মারা যাবে না!

আরও পড়ুন

×