‘ঈশানকোণে’ রং হারাল পাকিস্তান
ছবি- ক্রিকইনফো
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:২১
প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিকের ‘ঈশানকোণ’কে শক্তির উৎস মানা হয়। তাদের ক্রিকেটীয় শাস্ত্রেও বোধহয় কাল সেই শক্তি ভর করেছিল ঈশান কিষানের ব্যাটে। কলম্বোয় যখন পাকিস্তানি স্পিনারদের সামনে অভিষেক শর্মা আর হার্দিক পান্ডিয়া শূন্য রানে বিদায় নেন, তখন ঈশানের ব্যাটে অদ্ভুত এক শক্তি ভর করে। ১৯২.৫০ স্ট্রাইকরেটে ৪০ বলে ৭৭ রান করেন তিনি। মূলত তাঁর এই পুঁজি দিয়েই শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করে ভারত। যে রান তাড়া করতে নেমে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে তেরঙ্গার সামনে রং হারাল চাঁদতারা। প্রজন্মের এই লড়াইয়ে ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে ভারত। এই আসরে সুপার এইটে আর তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই, তবে সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে আবার লড়তে হতে পারে তাদের। তবে সেই হিসাব এখনও অনেক দূর। আপাতত এই ম্যাচের হিরো ঈশান আর ট্র্যাজিক হিরো উসমান তারিক।
বোলিং মার্কে এসে থেমে গিয়ে বোলিং করা পাকিস্তানি এই রহস্যময় স্পিনারের সামনে এদিন থমকে গিয়েছিল সূর্যকুমারের তেজ আর তিলক ভার্মার দাগ। ডেথ ওভারে দুই ওভার বোলিং করে মাত্র ৯ রান দেন তারিক। শেষের দিকে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের লাগাম টেনে ধরেছিলেন তিনি। এই প্রথম মিথ ভেঙে মাত্র এক পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দিয়ে দুই ওভার বোলিং করিয়েছিল পাকিস্তান। এই প্রথম বিশ্বকাপ আসরেও ছয় স্পিনার খেলানোর ইতিহাস গড়েছিলেন সালমান আগা। সাইম আইয়ুব, নাওয়াজরা বেশ ভালোই বোলিং করেছিলেন। কিন্তু তাদের ব্যাটাররা এদিন প্রেমাদাসার বাইশ গজের ভাষা বুঝে হাত খুলে খেলতে পারেননি।
প্রথম ওভারেই হার্দিক পান্ডিয়ার শর্ট বল চালাতে গিয়ে শূন্য রানে আউট হয়ে যান সাহিবজাদা ফারহান। এশিয়া কাপের মতো এদিন আর তাঁর ‘গান ফায়ার’ উদযাপন করতে দেননি ভারতীয় বোলাররা। বুমরাহর ইয়র্কারের ছোবল সাইমকে এক দণ্ড স্বস্তি দেয়নি। তাঁর শর্ট বল সালমান আগাকে বাউন্ডারি প্রলোভন দিয়েও তা হতে দেয়নি। মূলত ১৩ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরই প্রেমাদাসার গ্যালারিতে নীরব হয়ে যান পাকিস্তানি দর্শকরা।
যারা অভিজ্ঞ বাবর আজমের পুরোনো ইতিহাস মনে করে আশা ধরে রেখেছিলেন, তারাও হতাশ হয়েছেন অক্ষর প্যাটেলকে সুইপ খেলতে গিয়ে মাত্র ৫ রানে বাবর আজমের বোল্ড হয়ে যাওয়া দেখে। উসমান খান– দলের হয়ে কেবল তিনিই ভয়ডরহীন ব্যাট চালিয়েছিলেন। এক ছক্কা আর ছয় বাউন্ডারিতে ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন। সেই তিনিও অক্ষর প্যাটেলের কাছে উইকেট দিয়ে আসেন। এবং এবারও পাকিস্তানের সেই দুঃখ ঈশান কিষান উসমানকে স্টাম্পিং করেন।
এদিনও ম্যাচ শুরু হয় দুই অধিনায়কের হাত মেলানোর সৌজন্যতাকে দূরে ঠেলেই। এবং প্রথম ওভারেই সালমান আগার বোলিং করার চমক নিয়ে। আগের দিন তিনিই বলেছিলেন অভিষেক শর্মাকে ভারতীয় দলে দেখতে চান। হয়তো চেয়েছিলেন তাঁর উইকেটটি নিতেও। প্রথম ওভারে সেই অভিষেককে আউট করেন সালমান। কিন্তু সিয়াম, আবরার, সাদাব, শাহিন শাহ মিলে তখন থামাতে পারেননি ঈশান কিষানকে। ওপেনিং জুটিতে যেখানে ভারত ৮৮ রান তোলে, সেখানে ইশানেরই রান ছিল ৭৭। সুইপ, কাট আর স্ট্রেইট ড্রাইভে তিন ছক্কা আর ১০টি চারের মারে ভারতকে একাই এগিয়ে নিয়ে যান ঈশান। ভারতের এই ঈশানে অবশেষে রং হারায় পাকিস্তান।
- বিষয় :
- ভারত-পাকিস্তান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
