ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তাওহীদের হৃদয়ে খুশির হাওয়া 

তাওহীদের হৃদয়ে খুশির হাওয়া 
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ | ১৩:৪৯

তাওহীদ হৃদয়ের স্বভাবটা তাঁর ব্যাটিং স্টাইলের বিপরীত। ২২ গজে আক্রমণাত্মক হলেও কথা ও কাজে ঠান্ডা প্রকৃতির। এই মিতভাষী ব্যাটারই গতকাল রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কথার ঝাঁপি খুলে দেন। সাক্ষাৎকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকেই ফেরালেন না। সবার শেষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে ব্রিফও করলেন। মিডল অর্ডার এই ব্যাটারের পরিবর্তন এমনিতে হয়নি। জাতীয় দলের জার্সিতে টানা ভালো করায় মনটাও নরম হয়েছে তাঁর। এ কারণেই লিগের অনুশীলনের ফাঁকে সাক্ষাৎকার দিলেন হাসি মুখে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১১৮ রান করেন হৃদয়। প্রথম ম্যাচে ৫৫ রানে আউট হলেও পরের দুই ম্যাচে ৩০ ও ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। টি২০ সিরিজে ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন। জাতীয় দলের এই মিডলঅর্ডার ব্যাটার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের একটা রোল দেওয়া থাকে। সেই রোলে ভালো করতে পারলে খুশি লাগে। দলের জন্য যত অবদান রাখতে পারব, তত ভালো। কারণ সবাই সবার জায়গা থেকে চায় দলে অবদান রাখতে। আমি চেষ্টা করি সর্বোচ্চটা দেওয়ার।’ 

হৃদয় চার নম্বরে ব্যাটিং করতে চাইলেও দলের গেম প্ল্যানের কারণে পারছেন না। লিটন কুমার দাসকে মিডল অর্ডারে নেওয়ায় ওয়ানডেতে হৃদয়কে ব্যাট করতে হয় পাঁচ বা ছয় নম্বরে। টি২০ দলেও পারভেজ হোসেন ইমনকে ছেড়ে দিতে হয়েছে চার নম্বর পজিশন। পছন্দের পজিশনে খেলতে না পেরে হৃদয়ের মন পোড়ে। সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে ওপরের দিকে খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দলের প্রয়োজনে মিডল অর্ডারকেও মেনে নিতে আপত্তি নেই বলে জানান হৃদয়।

হৃদয়ের ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নেমে গেলেও পারফরম্যান্সে ‘টপ’। দলের খারাপ খেলা দিনেও লড়াই করতে দেখা যায় তাঁকে। নিজের ভালো খেলার দিনে দল হেরে গেলে খারাপ লাগে তাঁর, ‘খারাপ অবশ্যই লাগে। দিন শেষে ক্রিকেট টিম গেম। ভালো খেলার পরও দল না জিতলে ওই ভালো খেলার কোনো মানে থাকে না আমার কাছে। এর পরও বলব, এই ভালো খেলা ধারাবাহিক চলতে থাকলে দল জিতবে।’ 

জাতীয় দলের বাইরে নিজের প্রক্রিয়া মেনে চলেন হৃদয়। তিনি চান প্রতিটি দলের বিপক্ষে ভালো করতে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দলের জন্য পারফর্ম করাকে কর্তব্য মনে করেন মোহামেডানের অধিনায়ক। ওয়ানডে ও টি২০ ক্রিকেট খেলা হৃদয়ের লক্ষ্য এবার টেস্ট ক্রিকেট। জাতীয় দলের পাশাপাশি জাতীয় লিগের লাল বলে ভালো খেলে টেস্টে জায়গা করে নিতে চান। তিন সংস্করণে সমান অবদান রাখার ইচ্ছা তাঁর। তবে এই মুহূর্তে হৃদয়ের লক্ষ্য ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানকে শিরোপা উপহার দেওয়া। তিনি চান ঢাকা লিগে ভালো খেলে জাতীয় দলের সিরিজগুলোতে ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স করতে।

আরও পড়ুন

×