এক বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান, জানালেন থমাস ডুলি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২০:০৮ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ২০:১১
বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাগআউটে অবশেষে অবসান হলো দীর্ঘ অপেক্ষার। দুই বছরের চুক্তিতে আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন লাল-সবুজের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি। ঢাকায় পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের নতুন কোচ হিসেবে সবার সামনে হাজির হলেন ডুলি।
আজ সকালে বাংলাদেশে এসে বিকেলেই তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ‘কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে জামাল-হামজাদের নতুন এই কোচের পরিচয় করিয়ে দেন।
বাফুফের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে ঢাকায় থাকা নতুন মার্কিন কোচ থমাস ডুলি মঞ্চে দাঁড়িয়েই তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও ফুটবল দর্শনের কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ডুলি জানান, এশিয়ায় দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই অবগত ছিলেন। মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে থাকার সময় অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ হয়েছে। তখনই তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এ দেশের মানুষের ফুটবল নিয়ে আবেগ কতটা তীব্র। আর এই প্রবল ভালোবাসার টানেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ পদের জন্য আবেদন করেছিলেন।
দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এটার জন্য প্রস্তুত। আমি জার্মানি থেকে এসেছি এবং জার্মানিতেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে হয়তো ১০ লাখ কোচ আছেন, তারা সবাই ফুটবল বোঝেন এবং এটি ভালো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সব সময় আমার খেলোয়াড়দের এবং ফেডারেশনকে বলি, লক্ষ্য যদি বাস্তবসম্মত হয় তবে আমরা যেকোনও কিছু অর্জন করতে পারি। আমরা গত ২৩ বছরে কিছু জিতিনি, এখন সময় এসেছে তা করার।’
১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ডুলি নিজের লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট করেই বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা।’ তবে বর্তমান বাস্তবতাও ভুলে যাননি এই মার্কিন কোচ। বাংলাদেশের ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে ১৮০–এর আশপাশে ঘোরাঘুরি করায়, রাতারাতি যে এই র্যাঙ্কিংয়ে বড় কোনো লাফ দেওয়া সম্ভব নয়, সেই বাস্তব সত্যটাও সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মাঠের কৌশল ও খেলার ধরন নিয়ে ডুলি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো দলটিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে আরও আকর্ষণ অর্জন করবে। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে দৌড়াতে পছন্দ করি না। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বলি। বল তাড়া করা আমি পছন্দ করি না। এতে কোনও কারণ ছাড়াই দৌড়াতে হয়, বল ফেরত পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, অথচ বেশিরভাগ সময় বল ফেরত পাওয়া যায় না। আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি।’
নিজের লেখা বই ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস’এর সূত্র ধরে ফুটবলে সাফল্যের চারটি মূল স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন ডুলি। এর মধ্যে তিনি 'মানসিকতা' বা মেন্টালিটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের চিন্তাভাবনার ধরন বদলানো এবং সাফল্যের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা গড়ে তোলাই হবে তার প্রধান কাজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি সমর্থকদের ফলোয়ার নিয়ে রসিকতা করে ডুলি বলেন, ‘হ্যাঁ, সচেতন থাকুন, আমি জানি। বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে আমার ১০ লাখ বন্ধু হয়ে গেছে।’
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ফুটবল
- থমাস ডুলি
- বিএসপিএ
