ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রথমবার ইউরোপের স্বাদ জামালদের

প্রথমবার ইউরোপের স্বাদ জামালদের
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১২:৫৭

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ৩০। এবারের প্রেক্ষাপটে এগিয়ে বাংলাদেশ। ইউরোপের দেশ সান মারিনোর অবস্থান র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১১তম। বাংলাদেশ ১৮১তম। অতীতে কোনো দেশের বিপক্ষে নামার আগে যেভাবে র‍্যাঙ্কিং নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল, এবারও তাই। সেই সময় পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের কাছে র‍্যাঙ্কিং স্রেফ একটা সংখ্যা হিসেবে গণ্য হয়েছিল। সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচেও র‍্যাঙ্কিংটাকে একটা সংখ্যা হিসেবে মনে করা জামাল ভুঁইয়া-বিশ্বনাথ ঘোষরা বরং উচ্ছ্বসিত ইউরোপের মাটিতে প্রথম খেলতে নামায়। 

এতদিন এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেললেও এই প্রথম ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপিয়ান দলের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী বিশ্বনাথ ঘোষ-মিতুল মারমারা। শুক্রবার সেরাভালে স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে সান মারিনোর বিপক্ষে খেলবেন হামজা চৌধুরী-শমিত সোমরা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়, দেখা যাবে টি স্পোর্টসে।

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সান মারিনো ম্যাচটি তাই শুধুই একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, এটি হতে যাচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন কোচ আর নতুন স্বপ্নেরও এক সূচনা। যদিও অতীতে ইউরোপের দেশের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নতুন কোচ আর হামজা-শমিতের মতো তারকার উপস্থিতিতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে বাংলাদেশ এগিয়ে; কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ইউরোপের দেশ, তখন বাস্তবতা মানতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। 

ছোট্ট দেশ সান মারিনো বেশির ভাগ ম্যাচই খেলে থাকে বসনিয়া, অস্ট্রিয়ার মতো বিশ্বকাপ খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে। তাই স্বাভাবিকভাবেই র‍্যাঙ্কিংয়ে এর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশের ফুটবলাররা এসব নিয়ে ভাবছেন না। ইউরোপের মাটিতে খেলতে পারছেন বলেই বেশ রোমাঞ্চিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ, ‘আমাদের জন্য এটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। আমরা সবসময় সাফ আর এশিয়ার আশপাশে দেশগুলোর বিপক্ষেই খেলে থাকি। এবার ইউরোপের দেশের বিপক্ষে ম্যাচটি সবার জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা।’

খুব বেশি দিন হয়নি বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কোচ ডুলি। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্বনাথ, ‘তাঁর প্র্যাকটিস আমরা উপভোগ করছি। তাঁর যে ফরমেশন বা তাঁর যে ফিলোসফি, তা আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। বাকিটা ম্যাচের দিন দেখা যাবে।’ 

প্রথমবার সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব একটা ধারণা নেই বলে জানান বিশ্বনাথ। সান মারিনোতে যাওয়ার পর কিছুটা ধারণা পেয়েছেন। ‘এই দলের (সান মারিনো) সম্পর্কে আগে জানতাম না। এখন এসে অনেক জানাশোনা হচ্ছে। ইউরোপে এরা সবসময় বড় দলের বিপক্ষে খেলে। এই কারণেই হয়তোবা তাদের র‍্যাঙ্কিংটা নিচের দিকে। তবে খাতাকলমের দিকে চিন্তা করলে হবে না, দেখতে হবে ফিজিক্যালি ওরা মাঠে কেমন করে। আর তাদের বিপক্ষে আমরা কেমন খেলি। ওদের টিম যেমনই হোক, আশা করি ম্যাচটি উপভোগ্য হবে এবং আমরা ভালো খেলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব।’

নতুন কোচ ডুলির খেলার স্টাইল একটু ভিন্ন। বল পজিশনে রাখা এবং সিম্পল ফুটবল খেলতে পছন্দ তাঁর। হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে তিন বছরের বেশি খেলা জামালরা অল্প দিনেই নতুন কোচের কৌশল রপ্ত করেছেন বলে মনে করেন সহকারী কোচ হাসান আল মামুন, ‘আমাদের প্লেয়াররা নতুন কোচের খেলার স্টাইল বেশ মানিয়ে নিয়েছে এবং তিনি (ডুলি) সিম্পল ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন, বল পজিশন রাখতে পছন্দ করেন। পাস অ্যাকুরেসি এবং একসঙ্গে প্রেসিং করলে একসঙ্গে প্রেস করবে। যে কোনো কোচ যে কোনো স্টাইলের সঙ্গেই আপনাকে অ্যাডপ্ট করতে হবে এবং আমাদের প্লেয়াররা সেটা বেশ মানিয়ে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন

×