ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ান গেমস

ক্রিকেটও কিছুই দিল না

ক্রিকেটও কিছুই দিল না
×
×

ছবি- বিসিবি

সাখাওয়াত হোসেন জয়, নাগোয়া, জাপান থেকে

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৯

চারপাশে সবুজায়ন। মাঝে করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চোখ ধাঁধানো এই গ্রাউন্ডই কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এশিয়ান গেমসে যে ক্রিকেট ঘিরে পদকের স্বপ্ন ছিল, বাইজ গজের সেই লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নারী ক্রিকেট দলের পর ছেলেরাও এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিততে পারেনি। গতকাল শনিবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের পরাজয়ে পদকের স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটেছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে এসেছিল দুটি ব্রোঞ্জ। এবার শূন্য হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট। আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে উশুর জিন্নাত আক্তারের অপ্রত্যাশিত সেই ব্রোঞ্জপদকটি। পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছে ভারত।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ও ভারত শক্তিশালী দল পাঠিয়েছিল। তৃতীয় শক্তিধর দল হলো পাকিস্তান। কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলে নেই কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। পুরোপুরি তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে এশিয়াডে আসে তারা। এই দলটির সঙ্গেই কিনা পেরে ওঠেনি তারায় তারায় খচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানে হারায় দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমকে। রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন কুমার দাস পারেননি সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাট করতে। থুসারার বলে বোল্ড হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজের নামে পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। দলের কঠিন সময়ে যেখানে তাঁর হাল ধরার কথা, সেখানে লিটন কিনা বলের লেংথই বুঝতে পারেননি। ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এমন পরাজয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ‘সত্যিকার অর্থে, আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি।’

জাপানের আইচি নাগোয়া খেলতে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিল না কোনো সিরিয়াসনেস। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মর্মটা বোঝেননি লিটন কুমার দাস-রিশাদ হোসেনরা। মর্ম বোঝেননি বলেই তো ঘুরতে অন্য শহরে যান সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয় ও রিশাদ হোসেন। আবার রাতে শপিংও করতে দেখা গেছে কয়েকজনকে। শনিবার ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন শোনা লিটন সতীর্থদের পক্ষে সাফাই গাইলেন, ‘কী করলে আপনার কাছে মনে হতো যে গেমসটি আমরা হালকাভাবে নিইনি? ক্রিকেট খেলতে গেলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। আপনারা জানবেন না কারণ আপনারা ওইভাবে কোনো দিন ক্রিকেট খেলেননি। অনুশীলনের প্রয়োজন আছে। এখানে কি সেই সুযোগ-সুবিধা আছে? নেই। তাই একটা প্লেয়ার কি সারাদিন রুমের ভেতর বন্দি হয়ে বসে থাকবে। এশিয়ান গেমস থেকে যে খাবারটা আমাদের দেওয়া হচ্ছে, সেটা যখন উপযোগী হচ্ছে না, তখন তো খেতে বাইরে যেতে হবেই। তাই করেছেন খেলোয়াড়রা। এখন যদি বলেন না ক্রিকেট খেলব রোদের মধ্যে; কিন্তু সারাদিন এসি রুমে ঘুমাব, তখন তা তো আপনি গ্রহণ করবেন না। আমাদের কাছে যদি অনুশীলন করার জন্য অপশন থাকত, তাহলে বাইরে যেতে হতো না।’ 

কিন্তু যাদের কাছে হেরেছেন সেই পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কাকে তো আর বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয়নি আয়োজকরা। তাহলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দুটি দলের কাছে পরাজয় কি শুধুই অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া। উত্তরটা লিটন দিয়েছেন শুরুর মতো, ‘বাজে ক্রিকেট খেলেছি আমরা।’

দলের ব্যর্থতার সঙ্গে ক্রিকেটার লিটনের পারফরম্যান্সেও ভালো নয়। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন এবারের এশিয়াডে দুই ম্যাচে করেছেন ২ রান। তাই প্রশ্ন উঠেছে এশিয়াডে ব্যর্থতায় টি২০ নেতৃত্ব ছাড়বেন কিনা। উত্তরটা একটু বাঁকাভাবে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এশিয়ান গেমস থেকে নেতৃত্ব ছাড়লাম! আমার পারফরম্যান্স আপস টু দ্য মার্ক ছিল না। আমি দুটো ম্যাচে খারাপ খেলেছি। ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউন থাকেই। একদিন ভালো হবে আর একদিন খারাপ হবে। এই জন্য অধিনায়ক থেকে পদত্যাগ করার মতো এমন কী আছে। আমি পদত্যাগ করছি না।’

আরও পড়ুন

×