ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিসিবি পরিচালকদের বিদেশ ভ্রমণে হতাশ কাউন্সিলররা

বিসিবি পরিচালকদের বিদেশ ভ্রমণে হতাশ কাউন্সিলররা
×
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৭

বয়সভিত্তিক দলের ম্যানেজার হয়ে অনেক ক্রিকেট সংগঠক বিদেশ সফরে গেছেন আগে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি ফাহিম সিনহা কাউন্সিলর থাকার সময় ২০১০ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আর ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ সেলিম, আহসানউল্ল্যাহ হাসানসহ অনেকেই এভাবে বিভিন্ন সময়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব বা কাউন্সিলর হিসেবে বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়েছেন। সে নিয়ম বাতিল করেছে বোর্ডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। 

তামিম ইকবালরা নিয়ম করেছেন ক্রিকেট বোর্ডের টাকায় পরিচালক ছাড়া কাউন্সিলরদের কেউ বিদেশ সফর করতে পারবেন না। পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাস হয়েছে এই নিয়ম। আইন হওয়ার পর চারজন পরিচালক বিদেশ সফরে গেছেন জাতীয় দল, ‘এ’ দল ও হাইপারফরম্যান্স দলের সঙ্গে। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন খুলনা থেকে নির্বাচিত পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন ঢাকা বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদওয়ান, ক্লাব থেকে নির্বাচিত পরিচালক সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ ও জাপানে এশিয়ান গেমসে গিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটেগরি থেকে নির্বাচিত পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। কাউন্সিলরদের কেউ কেউ মনে করেন এই নিয়ম পরিচালক ও কাউন্সিলদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার জন্য। বার্ষিক সভায় এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে চান কাউন্সিলররা।

ঢাকার ক্লাবের একজন কাউন্সিলর বলেন, ‘কাউন্সিলরদের বিদেশে যাওয়ার অধিকার না থাকলে পরিচালকরা কেন যাবেন? টিম লিডার হিসেবে গিয়ে কী কাজ করেন তারা। নির্বাচনের আগে ভালো ভালো অনেক কথা শুনেছি। চেয়ার পাওয়ার পর সবাই উল্টে গেছেন।’ 

পরিচালকদের বিদেশ সফরের সুযোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে সহসভাপতি ফাহিম সিনহা বলেছেন, ‘বেশির ভাগ পরিচালকের সঙ্গে খেলোয়াড়রা ঘনিষ্ঠ নয়। খেলোয়াড় ও পরিচালকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

সর্বোচ্চ ১০ দিন বিদেশে থাকতে পারবেন একজন পরিচালক। বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ ছাড়াও দৈনিক ৫০০ ডলার দেয় বিসিবি। একজন ক্লাব কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদের ভোটে পরিচালকরা নির্বাচিত হন, সেই কাউন্সিলরদের বঞ্চিত করা হঠকারী সিদ্ধান্ত।’ 

পরিচালকদের বিদেশ ভ্রমণের নিয়ম করার কারণ জানতে চাওয়া হলে ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে নির্বাচিত পরিচালক মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আগে বিদেশ সফরে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। যে খুশি সে চলে গেছে খেলা দেখতে। বিসিবিকে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে তাদের পেছনে। বোর্ডের খরচ বাঁচাতে বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাউন্সিলরদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়নি ভোটে প্রভাব না পড়ে সেদিক মাথায় রেখে। এ ছাড়া কাউন্সিলর বয়সভিত্তিক দলে ম্যানেজার করে পাঠালে কাজের ক্ষতি হতে পারে। এখন দলের সঙ্গে ম্যানেজার থাকেন, যারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজ করেন।’ 

জেলা-বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাব মিলে ১৯২ জন কাউন্সিলর বিসিবির। এই বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলরের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হলে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে বলে মনে করেন একজন পরিচালক। তবে বিসিবি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিবরা বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে বিদেশে যেতে পারে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×