ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মরুতে এই প্রথম টেস্ট শান্তদের

আবুধাবি টেস্ট আজ

মরুতে এই প্রথম টেস্ট শান্তদের
×
×

আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার একমাত্র টেস্টের ট্রফি নিয়ে দুই দলের অধিনায়ক রহমত শাহ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফটোসেশন। ছবি-এসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:০৫

এর আগে আবুধাবিতে পাকিস্তানকে এশিয়া কাপে বধ করার স্মৃতি আছে; শারজাহ-দুবাইয়েও ওয়ানডে ও টি২০ ফরম্যাট খেলার অভিজ্ঞতা আছে লিটনদের। তবে এবারই প্রথম আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্ট পরীক্ষা দিতে নামছেন শান্তরা। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এই প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামছেন তারা। যেখানে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর মাঝের সময়টা মোটেই ভালো যায়নি শান্ত-লিটনদের। ম্যাকাই টেস্টে দেড় দিনের হার, জাপানে এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়ে টানা দুটি টি২০ হার– সব মিলিয়ে জয়ের ধারায় ফেরার চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ দলের। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের চেয়ে শান্তদের এই দল অভিজ্ঞতা ও র‍্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে। তবে আবুধাবি টেস্টের প্রধান চ্যালেঞ্জটাই বোধ হয় হতে যাচ্ছে সেখানকার চড়া রোদ আর ৪০ ডিগ্রির গরম। কোচ ফিল সিমন্সের দুশ্চিন্তা এই কন্ডিশন। কারণ, জাপানের কন্ডিশন থেকে ছয় ক্রিকেটার মাত্র দুদিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটাই তাদের নিতেই হচ্ছে। ‘এ মুহূর্তে এটিই একমাত্র সমস্যা যে ছেলেরা জাপান থেকে এসেছে, সেখানে তাদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না। তারপর এই আবহাওয়াতে এসে, মাত্র দুদিনের মধ্যে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এটি নির্ভর করে তারা কীভাবে মানিয়ে নেয়, তার ওপর। কারণ, দিন শেষে এটি একটি মানসিক বিষয়। তবে আজ গরমের মধ্যে তাদের প্রথম দিন হিসেবেও বেশ ভালোই মনে হয়েছে।’

এমনিতে এই টেস্ট আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। কিন্তু তারপরও এই টেস্টটিকেই প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে আগামী দেড় মাসের মধ্যে চারটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও মনে করছেন, নতুন কন্ডিশন আর নতুন প্রতিপক্ষের সামনে মানিয়ে নেবে তাঁর দল। ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের একটি ভালো সিরিজ গিয়েছে। তবে ওটা অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। সে জন্য আমাদের সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগেই চলে এসেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সেটি এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই আমি বিশ্বাস করি, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নেবে।’ 

আফগানদের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা টক-ঝাল মিলিয়ে মিশ্র। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় ২২৪ রানে বিশ্রী হারের অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। চার বছর পর ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে জয়-পরাজয় এখন ১-১ সমতায়। তবে আফগানিস্তান দলের সেই রশিদ খান এখন আর টেস্টে নেই। নতুন অধিনায়ক রহমত শাহ এবং প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাসের যুগলবন্দি দলটিকে এক নতুন দিশায় এগিয়ে নিতে মরিয়া। বাংলাদেশ দল প্রথাগতভাবে রিস্টস্পিন বা লেগস্পিনের বিরুদ্ধে কিছুটা দুর্বল– এমন চিরচেনা ধারণাকে পুঁজি করেই রণপরিকল্পনা সাজানোর ইঙ্গিত মিলেছে। কৌশলী পরিবর্তন এনে দুই বাঁহাতি স্পিনার শরাফউদ্দিন আশরাফ ও নাঙ্গিয়ালিয়া খারোটিকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্কোয়াডে ধরে রাখা হয়েছে লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ আর খলিল গুরবাজকে। পাশাপাশি এক বছরের বেশি সময় পর দলে ফেরানো হয়েছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রহমানকে। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য থাকলেও আফগানিস্তানের প্রধান চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। সেদিকুল্লাহ অতল ও আবদুল মালিকের হাত ধরে ইনিংসের গোড়াপত্তন হবে। আর তিন নম্বরে নামবেন ওয়ানডে মেজাজের আক্রমণাত্মক ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। দলটির ব্যাটিং শক্তির মূল ভিত্তি অবশ্য অধিনায়ক রহমত শাহ নিজে এবং অভিজ্ঞ হাশমতুল্লাহ শাহিদি। এ ছাড়া অলরাউন্ডার শহিদউল্লাহ কামালের ওপর থাকবে বাড়তি আলো। 

বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। লিটন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শেষ পাঁচ ইনিংসে করেছেন মাত্র ২ রান, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পরপর তিন টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া ছাড়াও এশিয়ান গেমসেও হতাশ করেছেন। মুশফিক অস্ট্রলিয়া সিরিজেও দুই টেস্টে সাকল্যে ৭০ রান করেছেন। মিডল অর্ডারে এ দুই ব্যাটারই দলের অন্যতম ভরসা। তাই তাদের ব্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই একমাত্র টেস্টেই বড় রান চাইছেন অধিনায়ক শান্ত। যদিও তিনি নিজে অসুস্থতা কাটিয়ে মাত্রই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাই প্রস্তুতির একটি ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় একটু আগেই চলে এসেছে এবং একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। সেটি এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তাই আমি বিশ্বাস করি, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নেবে।’

আরও পড়ুন

×