ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রুবেল-এনামুলদের এক চিলতে নস্টালজিয়া

রুবেল-এনামুলদের এক চিলতে নস্টালজিয়া
×
×

ম্যাচ শেষে রনি তালুকদার ও যুবরাজ সিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২৮ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২৯

রবিন উথাপ্পাকে আউট করে রুবেল হোসেন যখন ডান হাতটা উপরে তুলে সেই চেনা ভঙ্গিমায় দৌড় লাগালেন, মুহূর্তে যেন থমকে গেল সময়টা। এটা ২০২৬ সালের শারজাহর মরুর বুক, নাকি ২০১৫-র সেই রূপকথার অ্যাডিলেড ওভাল? যেখানে রুবেলের বিষাক্ত ইয়র্কারে ইংল্যান্ড চূর্ণ হয়েছিল! কিংবা যখন এনামুল হক জুনিয়র উইকেটটা নিয়েই সেই চেনা চওড়া হাসিতে সতীর্থদের ভালোবাসায় বন্দি হলেন, তখন মনে হলো, সময়টা থমকে গেছে কোনো এক সোনালি বিকেলে। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে তারা বিদায় জানিয়েছেন বহু বছর আগে। মাথার চুল কমে গেছে, চল্লিশোর্ধ শরীরের পেশিগুলো এখন আর আগের মতো অবাধ্য গতি মেনে চলে না। কিন্তু সোমবার রাতে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’ টুর্নামেন্টে যুবরাজ সিংয়ের ভারতকে যখন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বাংলাদেশ হারিয়ে দিল, তখন বোঝা গেল– ফিটনেস আগের মতো না থাকলেও বুকের ভেতরের আগুনটা নেভেনি। ইমরুল কায়েসদের চোখের সেই তীব্র জেদ, রনি তালুকদারের ব্যাটে সেই আদি তাণ্ডব আর রাব্বিদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আসলে শুধু একটা ম্যাচ জয় ছিল না; ওটা ছিল একটি আস্ত প্রজন্মের ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরকে টেনেহিঁচড়ে আবার জীবন্ত করে তোলা। লিজেন্ডস লিগের এই স্মৃতির কোলাজে তাই ম্যাচ জয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠল অবাধ্য নস্টালজিয়া।

অবসর বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লম্বা সময় না থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগটি মূলত বিশ্বজুড়ে থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের বিনোদন এবং এক চিলতে নস্টালজিয়া উপহার দেওয়ার জন্যই আয়োজন করা হয়ে থাকে, যার সঙ্গে আইসিসির অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। সেখানেই আমন্ত্রণটি বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। যেখানে তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসানদেরও খেলার কথা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে ‘বাংলাদেশ লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন’ দলে ইমরুল কায়েস, মাহমুদল্লাহ রিয়াদ, রনি তালুকদার, ফজলে রাব্বি, নাসির হোসেনরা খেলতে গিয়েছেন।

প্রথম তিন ম্যাচে জিততে জিততেও হারতে হয়েছে তাদের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬৪ তুলেও হার, অস্ট্রেলিয়ার ২০৪ রানের এভারেস্টে চড়তে গিয়ে ১৬৬তেই দম ফুরিয়ে যাওয়া, আর ক্রিস গেইলদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৮ রানের পাহাড় গড়েও ম্যাচটা মুঠো থেকে গলে যাওয়া– ভাবা যায়! অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল। তিন-তিনটি হারের ক্ষত বুকে নিয়ে চতুর্থ ম্যাচে যখন সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, তখন যেন এই বুড়ো হাড় ভেলকি দেখানোর পণ করল। 

এদিনও ওপেনিংয়ে রনির ব্যাটে বসন্তের হাওয়া। ২৫ বলে ৪০ রানের এক ক্যামিও– অবশ্য ইমরুল কায়েস ১০, ফজলে রাব্বি ৩, জহুরুল অমি ৬ কিংবা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১ রানের বেশি করতে পারেনি। ওপাশে ছিলেন মোহিত শর্মা, পিযূষ চাওলা কিংবা স্টুয়ার্ট বিনির মতো পুরোনো বোলাররা। এনামুল হক জুনিয়র মাত্র ১২ রান খরচ করে একে একে ইরফান, ইউসুফ, ঋষি ধাওয়ান আর অভিমুন্য মিঠুনকে যখন ড্রেসিংরুমের পথ দেখাচ্ছেন, গ্যালারিতে তখন শুধুই বিস্ময়। আনন্দের রেশ থাকতে থাকতেই বুধবার শারজাহতে ডুপ্লেসিস- পারনেলদের সেই পুরোনো স্বাদের প্রোটিয়া দলটির মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।  রিয়াদ-রুবেলরা ভালো করেই জানেন, বয়সটা আর ফিরে আসবে না। তাই আরও একবার বুক চিতিয়ে লড়তে চান তারা।

আরও পড়ুন

×