জেতা ম্যাচ ড্রতে হতাশ সাবেকরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:০৪
আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানকে হারাতে না পারা কারও মতে দুর্ভাগ্য, কারও দৃষ্টিতে দুর্বল পরিকল্পনার খেসারত। আসলে চার দিন ভালো খেলায় বাংলাদেশের নাগালেই ছিল জয়। এ জন্য ম্যাচের শেষ দিন ৭ উইকেট শিকার করতে হতো টাইগারদের। বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং লাইনআপ নিয়ে তা করতে না পারা হতাশার বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক তিন অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্টাম্পিং মিস, রানআউট করতে না পারা ও ক্যাচ ফেলায় বাংলাদেশের আশার গুড়ে বালি ঢেলে দেয় আফগানিস্তান। জাতীয় দলের সাবেক তিন অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করেন, নিজেদের ভুলে টেস্ট ম্যাচটি জেতা সম্ভব হয়নি।
প্রখর রোদ ও গরমের কারণে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্টের ধারণা হয়েছিল, উইকেট থেকে ভালো সুবিধা পাবেন স্পিনাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন তিন স্পিনার খেলানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে টস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, গরমের কারণে দ্বিতীয় দিন থেকে উইকেটে ফাটল দেখা দেবে। স্পিনারদের সুবিধা পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদও।
প্রথম দিনের খেলা শেষে বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘তৃতীয় বা চতুর্থ দিন থেকে উইকেটে ফাটল দেখা দেবে। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী মিরাজ ও নাঈম হাসান ভালো করবেন।’ সেখানে দেখা গেছে, পঞ্চম দিনের উইকেটেও ন্যূনতম সুবিধা পাননি স্পিনাররা।
খালেদ মাহমুদের মতে, ‘ওরা (আফগানিস্তান) ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে আমরা সময় পেয়েছি। ভালো একটা সময়ে ইনিংস ঘোষণা করা হয়েছিল। আমি উইকেট দেখিনি, কন্ডিশন সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা নেই। তবে আমার মনে হয়, আরও একটা ফাস্ট বোলার থাকলে ভালো হতো। কারণ, আফগানরা এমনিতে স্পিন ভালো খেলে। নাঈমের জায়গায় শরিফুল বা খালেদ থাকলে ভালো হতো। শরিফুল থাকলে বোলিং বৈচিত্র্য বাড়ত।’ মিস ফিল্ডিং ভুগিয়েছে বলে মনে করেন তিনি, ‘যে সুযোগগুলো এসেছিল, সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে জেতা সম্ভব ছিল। আমরা জেতার জন্যই খেলেছি। অনেক ইতিবাচক জিনিস আছে ম্যাচে। জিততে পারলে ভালো লাগত।’
প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। হাসান ও এবাদত মারাত্মক বোলিং দিয়ে আফগানদের অলআউট করেন ২৪০ রানে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে ঘোষণা করে দ্বিতীয় ইনিংস। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেয় প্রতিপক্ষকে। চতুর্থ দিন তিনটি উইকেটও নিয়েছিলেন মিরাজরা। সেখান থেকে ম্যাচ জিততে না পারার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা প্রভাব বিস্তার করে খেলেছি। টুকটাক ভুল না হলে জিতে যেতাম। রানআউট, ক্যাচ মিস হয়েছে। ওরা ব্যাটিংও ভালো করেছে। তবে আমি বলব, টেস্টের উইকেট ছিল না।’
এই ড্র টেস্টকেও ইতিবাচক মনে করছেন বিসিবির সাবেক এ পরিচালক, ‘ইতিবাচক হলো, লিটন ছন্দে এসেছে, যেটি খুব দরকার ছিল। এখন ছন্দটা ধরে রাখতে পারলেই হয়। এরপরও আমি বলব, টেস্ট ম্যাচটি সাড়ে চার দিনে জেতা উচিত ছিল। আমার মনে হয়, আবহাওয়ার কারণে বোলাররা সেরা অলআউট খেলতে পারেনি।’
নিখাদ ব্যাটিং উইকেট হওয়ায় তানজিম, সাদমান, নাজমুল, মুশফিক, লিটন, মিরাজরা রান করেছেন। আফগান ব্যাটারদেরও কৃতিত্ব দিলেন। মিনহাজুল নান্নুর মতে, ‘আফগানিস্তানকে কৃতিত্ব দিতে হয়, ওদের টেলএন্ডাররা যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করেছে। আমাদের বোলাররা যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। ভালো লাইনে বোলিং করেছে। ওদের কৃতিত্ব ম্যাচ ড্র করেছে। আমাদেরও ভুল ছিল, কিছু ক্যাচ ড্রপ হয়েছে। কিছু মিস ফিল্ডিং হয়েছে। রানআউট মিস হয়েছে। এরপরও বলব, ভালো কিছু প্রাপ্তি আছে।’
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-আফগানিস্তান
- টেস্ট ক্রিকেট