লিটনের ত্রিদেশীয় চ্যালেঞ্জ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২০
প্রস্তাবটি আফগানিস্তানেরই ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজের সঙ্গে গায়ে গায়ে জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও তাদের টি২০ আর টেস্ট সিরিজ। তাই তিন দল মিলে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনার মধ্যে বাণিজ্যিক একটি ব্যাপারও রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজের চেয়ে তিন দেশ মিলে ওয়ানডে টুর্নামেন্টটা দর্শক টানবে বলে বিশ্বাস আফগান বোর্ডের।
বাংলাদেশের জন্যও প্রস্তাবটি আকর্ষণীয়। এমনিতে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের স্বাদ তেমন নেই লিটনদের। গেল ঊনত্রিশ বছরে ১৩টি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলে চ্যাম্পিয়ন মাত্র দুবার। তাও প্রথমটি ২০০৭ সালে সহযোগী দুই দেশ কানাডা আর বারমুডার সঙ্গে। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালে ডাবলিনে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। আইসিসি আর এসিসির বাইরে তাই প্রায় সাত বছর পর ফের একটি বহুজাতিক আসরে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চ্যালেঞ্জটা থাকছে ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের ওপর।
আগামী বছরের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামীকাল শনিবার লিটন তাঁর অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন সেকান্দার রাজার সেই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে, যাদের কাছে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে সিরিজটি হেরেছিল বাংলাদেশ। যদিও সেই সিরিজে লিটন ছিলেন না, মুস্তাফিজও এক ম্যাচ খেলে ইনজুরিতে পড়ে গিয়েছিলেন। এবার অবশ্য এক নাহিদ রানা ছাড়া পুরো শক্তির দল হাতে পেয়েছেন লিটন।
মিরাজকে সরিয়ে লিটনকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডেতে অধিনায়ক করা হয়েছে এই ফরম্যাটে ভালো কিছুর আশায়। তাঁর জন্য ওয়ানডের এই নেতৃত্ব নতুন নয়। এর আগেও যখন নিয়মিত অধিনায়কের চোট দলকে ভাবিয়ে তুলেছিল, তখন খণ্ডকালীন সেনাপতি হিসেবে লিটনই সামলেছেন দলের হাল। মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে অধিনায়ক হিসেবে লিটনের সেই সংক্ষিপ্ত অধ্যায়টা ছিল নাটকীয়তায় পূর্ণ। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকার কথা ২০২২ সালের ভারত সিরিজের কথা। রোহিত-কোহলিদের সেই তারকাখচিত ভারতের অহংকার গুঁড়িয়ে দিয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ যে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল (২-১ ব্যবধানে), সেই ঐতিহাসিক ট্রফিটা উঠেছিল লিটন দাসের হাতেই।
এরপর ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচ জেতানো এক অনবদ্য অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে আগের সাত ম্যাচে ৩ জয়, ৩ হার আর একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের সেই মিশ্র স্মৃতি এবং ভারতকে সিরিজ হারানোর আত্মবিশ্বাসই এবার লিটনকে ত্রিদেশীয় সিরিজের কঠিন চ্যালেঞ্জে পথ দেখাবে।
আবুধাবিতে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে চার ইনিংসে শূন্য রানের একটা অস্বস্তি ছিল তাঁর মধ্যে। সেই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে পদক হাতছাড়া করার আক্ষেপটাও ছিল। সব মিলিয়ে সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছিল না তাঁর। তবে আবুধাবি টেস্টে সেঞ্চুরি ও কিপিং গ্লাভস হাতে ডিসমিসালের রেকর্ড গড়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তিনি।
আর সেই শক্তিটা অবশ্যই তাঁকে এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বাড়তি প্রেরণা দেবে। ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে টিম ম্যানেজমেন্ট লিটনকে অধিনায়ক করেছে তাঁর টি২০ ফরম্যাটের সাফল্য দেখে। আগামী বছরের ঠিক এই সময়টাতেই নামিবিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন লিটনরা। হাতে তাই এক বছরের মতো সময় রয়েছে। এর মধ্যেই দলের কিছু কম্বিনেশন পরীক্ষা করে নেওয়ারও সুযোগ পাবেন তিনি।
ওপেনিংয়ে একটি সেট জুটি, ছয়-সাত নম্বরের অলরাউন্ডার আর স্পিন বিভাগে মিরাজের সঙ্গে একটা থিতু জুটি। আপাতত ত্রিদেশীয় এই টুর্নামেন্ট থেকেই কম্বিনেশনগুলো থিতু করার চেষ্টা করবেন তিনি। আর এই আবুধাবিতো লিটনের কাছে নতুন নয়, দুই বছর আগে এখানে এশিয়া কাপ টি২০তে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল।