ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাটিং ধসে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশের

ব্যাটিং ধসে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশের
×
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:৩৮ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:৪৭

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় একসময় বাংলাদেশের কাছে ছিল নিয়মিত ঘটনা। টানা ১৯ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দাপট এখন অতীত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের লড়াইয়ে পাল্টেছে চিত্র। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্দশা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একের পর এক ব্যাটারের আসা-যাওয়ায় রান তাড়ার লড়াই দ্রুত রূপ নেয় আত্মসমর্পণে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে যে ধৈর্য, জুটি আর দায়িত্বশীল ব্যাটিং দরকার, তার কোনোটিই দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ।

শুরুটা অবশ্য একেবারে খারাপ ছিল না। তানজিদ ও সৌম্য সরকার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৪৭ রান। সৌম্য ১৭ বলে ৯ রান করে ফিরলেও তানজিদ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে তিনিও বিদায় নেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত করেন মাত্র ৪ রান। ৬৮ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখনই বিপদে পড়ে যায়।

সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব ছিল অভিজ্ঞ ও মাঝের সারির ব্যাটারদের। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ১৩ রানে থামেন। সাইফ হাসান করেন ২৬, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ফেরেন ১১২ রানের মাথায় দলের পঞ্চম উইকেট হিসেবে। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস আরও প্রকট হয়। নুরুল হাসান সোহান, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দ্রুত ফিরলে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তাসকিন আহমেদের ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংসও হার এড়াতে পারেনি।

এর আগে বল হাতে অবশ্য দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও তাফাদজওয়া সিগাকে ফিরিয়ে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে দেন তাসকিন। মনে হচ্ছিল, বড় সংগ্রহ গড়ার আগেই জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ।

কিন্তু ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের জুটি বদলে দেয় ম্যাচের চেহারা। চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রান যোগ করে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন তারা। ৮১ রান করে টেলর ফিরলেও আরভিন এক প্রান্ত আগলে রেখে এগিয়ে যান। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে শরিফুল ইসলামের বলে ৯৩ রানে থামে তার ইনিংস। শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরির অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন নেন ৩ উইকেট। শরিফুল ও সাইফ হাসান পান ২টি করে, রিশাদ হোসেন নেন ১ উইকেট। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেও মাঝের ওভারগুলোতে টেলর-আরভিনের জুটি ভাঙতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল প্রায় নিয়মিত চিত্র। টানা ১৯টি ওয়ানডেতে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ব্যবধান কমেছে। ২০২৫ সালে সিলেটে টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জেতে তারা। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিল দলটি।

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর আমিরাতে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা ছিল দলের। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের এমন ভঙ্গুর চেহারা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে। বিশেষ করে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতে দেখা গেছে, তা ছিল হতাশাজনক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে বুধবার শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে পারলে শুক্রবার একই মাঠে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নামার সুযোগ মিলবে। তবে তার আগে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। কারণ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য আফগানিস্তানও এখন কঠিন প্রতিপক্ষ।

আরও পড়ুন

×