তৃতীয় বিভাগ বাছাই
অভিযোগে সাড়া নেই বিসিবির
ফাইল ফটো
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১২
প্রতিকার না পাওয়া এবং প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ার ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্টে খেলা ক্লাব সংগঠকরা। বেশির ভাগ ক্লাব লিখিত অভিযোগ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে ম্যাচে অনিয়মের শিকার হয়েও। লিখিত অভিযোগ দিতে অনীহার কারণ জানতে চাওয়া হলে একজন সংগঠক বলেন, ‘কোনো প্রতিকার নেই। আপনি লিখেও কিছু করতে পারবেন না। তারা আপনাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। ফোন করে আমাকে হুমকি-ধমকি দেবে। আমরা চাইলেও ক্রিকেট সংগঠক হতে পারব না।’ ঢাকা তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্টে ৭০টি ক্লাবের অংশগ্রহণ। এই বিশাল টুর্নামেন্টে ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তবে ক্লাব সংগঠকদের অভিযোগ, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিদের পক্ষপাতিত্বকে ভুল আখ্যা দেওয়া হচ্ছে কতিপয় ক্লাবের স্বার্থ রক্ষায়। এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীতিনির্ধারকদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠকদের।
কেন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
শান্তিনগর ক্লাব। স্থাপিত ১৯৫৬ সাল! প্যাডে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ফোন নম্বর, ঠিকানা সবই লেখা। ৭০ বছরের পুরোনো এই ক্লাবটি এবার অংশগ্রহণ করেছে তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্টে। ম্যাচে অনিয়মের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে ৩ অক্টোবর ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশে (সিসিডিএম) লিখিত অভিযোগ দেয় তারা। শাইনিং স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে শান্তিনগর ক্লাবের ম্যাচে একটি ক্যাচ আউট নিয়ে আপত্তি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। শান্তিনগর ক্লাব প্রতিনিধি মো. শেখ জামাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটারের গ্লাভসে লেগে ক্যাচ হয়। উইকেটরক্ষকের সঙ্গে লেগ আম্পায়ারও শব্দ শোনার কথা জানান স্ট্রাইক এন্ড আম্পায়ারকে। অথচ স্ট্রাইক এন্ড আম্পায়ার বলেন, ‘আমি শুনিনি। তাই আউট না।’ বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের বিপক্ষে ১৭ অক্টোবর নকআউট ম্যাচে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। অবস্ট্রাকশন দ্য ফিল্ড তথা ব্যাটারকে রান নিতে বাধা দেওয়ায় ফিল্ডিং দলকে ৫ রান জরিমানা না করে রানআউট দেয়। এই অভিযোগ মিরপুর ওয়ারিয়র্সের কর্ণধার মেহেদী হাসান সোহাগের। প্রতিপক্ষ দলে ২৫ বছরের বেশি বয়সী ক্রিকেটার খেলানোয় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে আরেকটি দল ইউবিএফ ক্রিকেট ক্লাব।
খেলায় হেরে গেলেই কি অভিযোগ?
শান্তিনগর ক্লাবের কর্মকর্তা শেখ জামাল জানান, হেরে গেলেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয় না। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দল ও খেলোয়াড়রা একটি স্বপ্ন নিয়ে খেলতে আসে। পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে অনেক দলের স্বপ্নভঙ্গ হয়। বিশেষ কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ভুলের অভিনয় করলে প্রতিবাদ হওয়া স্বাভাবিক। আমি যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ১৫ দিন হয়ে গেলেও সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। সিসিডিএম থেকে আমাকে কিছু জানায়নি।’ তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্ট কমিটি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না বলে দাবি ক্লাব সংগঠকদের। এ কারণে লিখিত অভিযোগ দেন না বলে জানান একটি ক্লাবের মালিক।
বিসিবি আম্পায়ার্স বিভাগের দ্বিমত
আম্পায়ার্স বিভাগের ইনচার্জ নোমান আব্দুল্লাহ অভির মতে, ‘৭০টি ক্লাবের ম্যাচ পরিচালনা করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। আম্পায়ারা ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে না। সেগুলো ইচ্ছাকৃত ভুল হলে শাস্তি পাবে। কাউকে শাস্তি দিতে হলে প্রমাণ লাগে। ক্লাবের কাছ থেকে লিখিত পেলে আমরা ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নিই। বাইরে থেকে ক্লাব কর্মকর্তারা যেটাকে ভুল মনে করেন, স্টাম্পের সামনে থেকে আম্পায়ার সেটাকে সঠিক দেখেন। গ্রুপ পর্বের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। নকআউট পর্বে যে অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো শৃঙ্খলা কমিটি দেখছে।’
নিবন্ধনহীন ক্লাবের ছড়াছড়ি
বাছাই টুর্নামেন্ট খেলে তৃতীয় বিভাগে উন্নীত হওয়া ১৪ ক্লাবের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে নালিশ হয়েছিল দুর্নীতি দমন বিভাগে (দুদক)। নামসর্বস্ব ক্লাবগুলোকে কাউন্সিলরশিপ না দেওয়ার পক্ষে ছিলেন তৎকালীন বিসিবির কর্মকর্তারা। ১৪টি ক্লাব নিয়ে দুদকের পর্যবেক্ষণও ছিল। জটিলতা নিরসন ও স্বচ্ছতার খাতিরে নিবন্ধিত ক্লাব নিয়ে লিগ বা টুর্নামেন্ট করার সুপারিশ দেয় দুদক। বিসিবি বা সিসিডিএম সে পথে না হেঁটে এবারও নামসর্বস্ব ক্লাবকে এক লাখ টাকা অংশগ্রহণ ফি নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে চট্টগ্রাম, নড়াইল, বরিশাল থেকে ১০ থেকে ১২টি ক্লাব অংশগ্রহণ করে। নিবন্ধনের প্রয়োজন না হওয়ায় তৃতীয় বিভাগে উন্নীত হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ক্লাব বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
সিসিডিএম চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা
তৃতীয় বিভাগ বাছাই লিগে ক্লাবগুলোর অনিয়মের অভিযোগ খুব বেশি হয়নি বলে দাবি সিসিডিএম চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন চৌধুরীর। তিনি বলেন, ‘৭০টি দল ও ১৪০০ ক্রিকেটার খেলছে। এখানে এক-দুইটি অভিযোগ বাদ দিলে আমি বলব খুব ভালো টুর্নামেন্ট হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সমস্যা হলো বেশির ভাগ ক্লাব মৌখিক অভিযোগ করে। মৌখিক অভিযোগের কোনো মূল্য নেই।’ ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ক্লাবের নিবন্ধন না থাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব ক্লাবের নিবন্ধন থাকুক। পরের বছর থেকে ক্লাবগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে।’ ঢাকার বাইরের ক্লাবের খেলার কারণ সম্পর্কে সিসিডিএম চেয়ারম্যান বলেন, ‘খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ করে দিতেই আগ্রহী ঢাকার বাইরের ক্লাবকে নেওয়া। ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে খেলেছে তারা। নড়াইল থেকে এনসিসি, চট্টগ্রাম থেকে শাইনিং ক্লাব খেলেছে।
- বিষয় :
- ফুটবল
- খেলা
- বিসিবি
- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড