চাঁদপুরে শিশুদের সাঁতার শেখাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০০
নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক সমস্যা। সাঁতার না জানার কারণে প্রতিবছর প্রাণ হারায় বহু শিশু। এ ঝুঁকি কমাতে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উইজডম সেন্ট্রাল স্কুল।
গত শনিবার থেকে বিদ্যালয়টির প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৭ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের মোট ১৯৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে আগ্রহীদের সাঁতার শেখানোর এ উদ্যোগে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন রেদওয়ান। প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কাছের একটি পুকুরে চলে প্রশিক্ষণ। শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখার জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। তবে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করতে হবে তাদের নিজেদের।
প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে খেলার ছলে সাঁতারের প্রাথমিক কৌশল শিখছে শিশুরা। পাশাপাশি পানিতে নিরাপদ থাকার নিয়ম, বিপদে করণীয় এবং সাঁতারের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কেও তাদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সাঁতার শেখার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত শিক্ষার্থীরাও। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিহাব, আরাফাত সানী ও নাজীব জানায়, সাঁতার শেখার পাশাপাশি পানিতে নিরাপদ থাকার নিয়ম ও বিভিন্ন কৌশল শিখতে পেরে তারা খুশি।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এম এম নেয়ামত উল্লাহ সরকার বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, বাস্তব জীবনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাও জরুরি। নদীমাতৃক বাংলাদেশে সাঁতার জানা শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও নৌদুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সাঁতার না জানার কারণে শিশুরা পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়।
নেয়ামত উল্লাহ বলেন, একসময় বিদ্যালয়গুলোতে সাঁতার শেখার চর্চা থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই কমে গেছে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থীও সাঁতার জানে না। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাঁদের এ উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আনন্দের মধ্য দিয়ে সাঁতার শেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন হয়ে উঠবে, এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।