মাওকে নিয়ে রসিকতা, চীনে এমবাপ্পেকে বর্জনের ডাক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১২
ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে হ্যারি কেইনের কাছে হারের পর এবার চীনে বিতর্কে জড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রয়াত চীনা নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে রসিকতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফরাসি এই ফুটবলারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে চীনের দুই বড় প্রতিষ্ঠান।
চীনের পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডংপেং এবং বৃহৎ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ পৃথক বিবৃতিতে এমবাপ্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে জাতীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান এবং এ ধরনের বিষয়ে শূন্য-সহনশীলতার নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মেংনিউ জানিয়েছে, এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করা হবে। একই অবস্থান জানিয়েছে ডংপেংও। প্রতিষ্ঠান দুটির সিদ্ধান্তের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ফরাসি টক শো ‘দ্য ব্রিজ’-এ এমবাপ্পের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, ইন্টারনেটে দেখা সবচেয়ে মজার মিমগুলোর একটি হলো তার মুখ অন্য একজনের ছবিতে বসিয়ে তৈরি করা মিম। ওই ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো একজন লোক, আমার মনে হয়, তিনি একজন চীনা স্বৈরশাসক।’
এ সময় পর্দায় মাও সেতুংয়ের মতো দেখতে এক ব্যক্তির ছবিতে এমবাপ্পের মুখ বসানো একটি মিম দেখা যায়। এমবাপ্পে আরও বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি মিমটি প্রায়ই ব্যবহার করেন। তবে ছড়িয়ে পড়া ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে এএফপির ফ্যাক্ট চেক বিভাগ। ফলে ভিডিওতে ঠিক কী বলা হয়েছিল এবং মন্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে করা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
চীনে মাও সেতুংকে নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেন তিনি। তার শাসনামলে দ্রুত শিল্পায়নের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পরে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ও ব্যাপক সহিংসতা ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এসব বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসে মাও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এমবাপ্পেকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কিছু ব্যবহারকারী তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্র্যান্ডগুলো বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ রিয়াল মাদ্রিদকেও বর্জনের কথা বলেছেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিতর্কিত ক্লিপে এমবাপ্পে ঠিক কী বলেছেন, তা স্পষ্ট না করেই এত বড় প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে কেন।
বিতর্কের প্রভাব ক্রীড়া সম্প্রচারেও পড়তে পারে বলে খবর প্রকাশ করেছে চীনা সংবাদমাধ্যম। ‘দ্য পেপার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত করছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর বরাতে জানা গেছে, সিসিটিভির সংবাদ অ্যাপগুলোতে এমবাপ্পেকে নিয়ে কনটেন্টও আর দেখা যাচ্ছে না।
- বিষয় :
- কিলিয়ান এমবাপ্পে
- চীন