টেস্ট হেরে বোলারদের নিয়েই যত অভিযোগ শান্তর
ছবি- বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৯
মিরপুরের উইকেটে দেড়শ রানও কখনও কখনও অনেক বড় লক্ষ্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছোট রান ডিফেন্ড করারও রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এবার স্পিন উইকেটে খেলা হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেওয়া ১৭০ রানকে বড় লক্ষ্য মনে করা হচ্ছিল। চতুর্থ দিনের উইকেটে তিন স্পিনারকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে নেবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা– সে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু ক্যারিবীয় ব্যাটাররা জুটি গড়ে স্বাগতিক তিন স্পিনারকে ব্যর্থতার চোরাবালিতে ডুবিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় ৮ উইকেটে।
গতকাল শনিবার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কাছে ম্যাচ হারের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল যে এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল তাতে করে। দুর্ভাগ্যবশত ওটা হয়নি। অবশ্যই ওদেরকে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) একটু কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
তিন স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে ফ্লপ। প্রথম ইনিংসেও আহামরি বোলিং করতে পারেননি তারা। কারণ হিসেবে শান্ত জানান ভালো লেন্থে বোলিং করতে না পারা, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। লেংথটা একটু এলোমেলো ছিল। চতুর্থ ইনিংসে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি আমরা। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটা উইকেট নিতে পারলে বুঝতাম আমরা হয়তোবা রান অনেক কম করেছি। সেদিক দেখলে বোলিংয়ে একটু এলোমেলো ছিল।’
হঠাৎ স্পিন উইকেটে খেলার পেছনে কারণ ব্যাখ্যা করেন অধিনায়ক, ‘আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ও আমাদের শক্তির জায়গা কাজে লাগিয়ে কীভাবে ভালো করতে পারি, সে পরিকল্পনা থেকে স্পিন উইকেট গড়া হয়েছিল। আমার কাছে মনে হয়, আমরা প্রথম ইনিংসে ব্যাকফুটে চলে গেছি। প্রথম ইনিংসে উইকেট যে রকম ছিল এবং আমরা যেভাবে প্রথম দিন শেষ করেছিলাম, তিন উইকেটে ২১৩ রানে। সেখান থেকে ২৭২ রানে অলআউট হয়ে পিছিয়ে পড়ি। আমরা জানতাম পরের দিকে ব্যাটিং করা কঠিন হবে। আমি বলব যে ভুলটা আমরা প্রথম ইনিংসে করেছি। প্রথম ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারলে খেলা ভিন্ন হতে পারত।’ যদিও প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড ছিল বাংলাদেশের।
স্বাগতিকদের হতাশ করতে পেরে খুশি উইন্ডিজ। সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেন, ‘যে কোনো জায়গায় বা যে কোনো পরিস্থিতিতে টেস্ট ম্যাচ জেতা নিঃসন্দেহে দারুণ একটি অনুভূতি। তবে আমরা এখানে সিরিজ জিততে এসেছি, তাই আমাদের যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল, তেমনই হয়েছে। ম্যাচের প্রথম দিন মাঠে এসে ঘাস কম দেখে আমরা বেশ অবাক হয়েছিলাম। ঘাস যে এতটা কমিয়ে ফেলা হবে, তা ভাবিনি। পরিস্থিতি দেখে শেষ মুহূর্তে দলে পরিবর্তন আনি– রোচকে বাদ দিয়ে বিশপকে অন্তর্ভুক্ত করি।’