প্রত্যাশার ধারে কাছে নেই তাইজুল
ছবি- এএফপি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:০৭
সেদিন মিরপুর টেস্ট শেষ চার দিনে হেরে যাওয়ার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে বসেছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান। ত্রিদেশীয় সিরিজের মতো হারের পর ড্রেসিংরুমে তামিমের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের খবর অবশ্য এদিন পাওয়া যায়নি। সেখানে নাকি টেস্ট অধিনায়কের সঙ্গে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে কথা বলেছিলেন তামিম ইকবাল। পরে অবশ্য বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গেও বিসিবি সভাপতির একটি জরুরি বৈঠকের খবর মিলেছে।
আসলে দুই মাস ধরে ক্রিকেটে ভীষণ খারাপ সময় যাচ্ছে। এশিয়ান গেমস থেকে শুরু করে ত্রিদেশীয় সিরিজ, টি২০ ফরম্যাট থেকে শুরু করে ওয়ানডে এবং সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট– গত সাতটি ম্যাচে জয়শূন্য বাংলাদেশ। এই অবস্থায় পুরো দলের সমস্যাটা আসলে কী, তা নিয়ে চিন্তিত তামিম ইকবাল চেষ্টা করছেন সবার সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটা বের করার। তবে আপাতত একটি ব্যাপার পরিষ্কার করেছেন দলের স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ।
পাকিস্তানের এই সাবেক কিংবদন্তি গতকাল রোববার স্পিন হান্টের সেশনে গিয়ে প্রতিভাবান স্পিনারদের হাতেকলমে কিছু শিখিয়েছেন। এবং সেখানেই মিডিয়ার কাছে মিরপুর টেস্ট নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন। ‘একজন স্পিনারকে আগে বল স্পিন করাতে হবে। ম্যাচে সে তখনই ব্যাটারকে পরাস্ত করতে পারবে, যখন সে বল টার্ন করাতে পারবে।’ এমনিতে তিনি দার্শনিকের মতোই কথা বলেন, তবে এদিন মুস্তাকের গলায় ছিল আসন্ন বিপদের সুর। ‘মিরপুরে যা হয়েছে তা হয়েছে, তা বাংলাদেশ দলের জন্য ওয়েকআপ কল। সিলেটে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।’
আসলে মুস্তাক আহমেদ যা বলতে চাইছেন, তা বেশ পরিষ্কার। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর দলের আর কোনো সাফল্য নেই। এখন সিলেটেও যদি ক্যারিবীয়দের কাছে হেরে যান শান্তরা, তাহলে ডারউইন টেস্ট জয়টিকেই অনেকে ‘চমক’ বলা শুরু করবেন। টেস্টে প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নেওয়ার জন্য ঘরের মাঠে অন্যতম ভরসা দলের দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। তাদের দুজনের ওপর প্রচণ্ড প্রত্যাশা রেখেই মিরপুরে শেষ মুহূর্তে টনি হ্যামিংয়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‘র্যাঙ্ক টার্নার’ পিচ বানানো হয়েছিল শেষ বেলায় ঘাস ছেঁটে। কিন্তু সেখানেই কিনা ক্যারিবীয় স্পিনাররা ১৬ আর বাংলাদেশি স্পিনাররা ৮ উইকেট শিকার করলেন।
তাইজুল ইসলাম প্রথম ইনিংসে দুটি উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য। সেই হারারে টেস্টের পর গত সাতটি ইনিংসে তিনি উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৫টি ! কিন্তু ক্যারিবীয় স্পিনাররা যে উইকেটে গড়ে ৩.৬ ডিগ্রি বল টার্ন করাতে পেরেছেন, সেখানে তাইজুল-মিরাজ-নাঈমদের গড় ৩ ডিগ্রি। ঠিক এখানেই মিরপুরে পিছিয়ে পড়েছে দল। টেস্টের শেষ দিন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে তাইজুলকে কী বলছিলেন মুস্তাক আহমেদ? ‘আমার বার্তাটি ছিল বল স্পিন করাও, ব্যাটারকে খেলার জন্য বেশি স্পেস দিও না।’ আসলে তাইজুল আর মিরাজ মিলে গড়ে ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন। স্কিড করানোর চেষ্টা করেছেন। ঠিক এখানেই মুস্তাকের পরামর্শ ছিল বলের গতি কমিয়ে স্পিন করানোর। তবে মাঠে তা করতে পারেননি তাইজুল।