ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে শেষ হাসি রিয়ালের, জয়ের নায়ক ভালভার্দে

পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে শেষ হাসি রিয়ালের, জয়ের নায়ক ভালভার্দে
×
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৯

শেষ মুহূর্তে গোল করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া, রিয়াল মাদ্রিদের কাছে যেন পরিচিত এক চিত্রনাট্য। গ্রিসের মাটিতে এএইকে এথেন্সের বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালকে জেতালেন ফেদে ভালভার্দে। তার গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা চার জয়ে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানেও উঠে আসে তারা।

ম্যাচ শেষে রিয়ালের কোচ হোসে মরিনহোর কথাতেও ছিল এই ফিরে আসার আত্মবিশ্বাস। শেষ মুহূর্তে জয় তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আরও স্বস্তির জয় পছন্দ করি। তবে শেষ মুহূর্তে জেতা ম্যাচগুলো... শুধু আমরাই জিততে পারি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা সব সময় সঠিক জায়গায় থাকি। খেলোয়াড়দের সাহস আছে। তারা বিশ্বাস করে বলেই এমনটা সম্ভব হয়। এমন মানের খেলোয়াড়দের কোচ হতে পেরে আমি খুব ভাগ্যবান।’

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে এএইকে এথেন্স। পঞ্চম মিনিটে স্বাগতিকদের একটি ভালো সুযোগ থিবো কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও বেশিক্ষণ গোলমুখ সামলে রাখতে পারেনি রিয়াল। ১৫ মিনিটের দিকে আবুবাকারি কইটার গোলে এগিয়ে যায় এথেন্স। মার্ক কুকুরেয়ার বাধা কাটিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় রিয়াল। ২৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। তবে চার মিনিট পর আর হতাশ হতে হয়নি ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। কুকুরেয়ার পাস থেকে দারুণ এক নো-লুক ফ্লিকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের লড়াই ছিল জমজমাট। ৭৫ মিনিটে স্ট্রাভোস পিলিওসের গোলে আবার এগিয়ে যায় এএইকে। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পর ডেনজেল ডাম্প্রিসের পাস থেকে ছয় গজ বক্সের ভেতর বল পেয়ে জালে পাঠান কিলিয়ান এমবাপে। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এরপর জয়সূচক গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু তার শট গোলরক্ষকের আঙুল ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ভালভার্দে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া দুর্দান্ত শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি এএইকে গোলরক্ষক।

মরিনহোর মতে, ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য ঝুঁকি নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘২-২ সমতা মেনে নেওয়ার মতো ফল ছিল। তাতে আমাদের পয়েন্ট হতো ১০। কিন্তু আমরা আরও বেশি চেয়েছিলাম, ঝুঁকি নিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট পেয়েছি।’

রিয়ালের কোচ প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছেন। তার চোখে, এএইকে এথেন্স নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও ভালো ফুটবল খেলেছে। মরিনিয়ো বলেন, ‘আমি সত্যিই অসাধারণ একটি এএইকে দল দেখেছি। তারা দুর্দান্ত তীব্রতা নিয়ে খেলেছে, দ্বৈরথে জিতেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় বলের দখল নিয়েছে, বারবার বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করেছে। আমার মনে হয়, এটি তাদের সেরা ম্যাচ ছিল।’

এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি।

আরও পড়ুন

×