ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

নিকো পাজের জাদুতে রূপকথার কোমো

নিকো পাজের জাদুতে রূপকথার কোমো
×
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:২২

ইউরোপিয়ান ফুটবলের চিরচেনা আকাশটাকে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত নীল রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে ইতালির ছোট্ট শহর থেকে উঠে আসা এক বিস্ময় ক্লাব– ‘কোমো ১৯০৭’। ইতালির জুভেন্তাস, এসি মিলান বা ইন্টার মিলানের মতো ঐতিহাসিক ও মহাতারকা খচিত ক্লাবগুলোর ভিড়ে কোমো যেন এক ভিন্ন আমেজের আভিজাত্য। ঐতিহ্য বা ট্রফি কেবিনেটের বিশালতায় মিলান বা তুরিনের জায়ান্টদের চেয়ে তারা হয়তো অনেকটাই পিছিয়ে; কিন্তু বর্তমান ইউরোপীয় মঞ্চে এসে ইতালিয়ান ফুটবলের সেই চিরচেনা আকাশছোঁয়া খ্যাতির পাশে কোমো এখন রূপকথার আলোয় উজ্জ্বল। 

মিলান শহরের গা ঘেঁষে লেক কোমোর তীরের এই ছোট্ট ক্লাবটি আজ জুভেন্তাস-ইন্টারদের মতো ইতালির সীমানা পেরিয়ে পুরো ইউরোপের ফুটবল মানচিত্রে এক নতুন পরাশক্তি হয়ে ওঠার বার্তা দিচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জার্মানির লাইপজিগের পর ফ্রান্সের লেঁসকে রেকর্ড ৯-১ গোলে হারিয়েছে তারা। 

কোমোর ৮ গোলের জয়ের ব্যবধানটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যে কোনো ম্যাচে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডের সমকক্ষ (২০১৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ৮-০ মালমো, ২০০৭ সালে লিভারপুল ৮-০ বেসিকতাস)। আর কোমোর এই রূপকথার মূল কারিগর এক আর্জেন্টাইন তরুণ জাদুকর– নিকো পাজ।

চার ম্যাচ শেষে নিকো পাজ এখন ইউরোপের সেরা মঞ্চের পোস্টার-বয়। ৩টি গোল আর ৫টি অ্যাসিস্ট–মোট ৮টি গোল অবদান নিয়ে তিনি টপকে গেছেন হ্যারি কেইন কিংবা লামিনে ইয়ামালদের মতো বাঘা বাঘা তারকাকে। আর্জেন্টাইন মাটির সেই চিরপরিচিত ড্রিবলিংয়ের নেশা, মাঠের গভীর থেকে খেলা তৈরি করার সহজাত দৃষ্টি আর প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে বক্সে ঢুকে পড়ার পৈশাচিক ক্ষমতা– নিকো পাজের পারফরম্যান্সের সুবাস আজ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন পাজের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বাঁ পায়ের বাঁকানো শট যখন জালে জড়াল, পুরো গ্যালারি তখন একমুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। ৯ গোলের ম্যাচে এদিন তিনি একটি গোল করলেও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আর দুটি।

আর্জেন্টিনা থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় ইউরোপে আসে, তাদের প্রথম লক্ষ্যই থাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা কোনো ক্লাবে যাওয়া। নিকো পাজও রিয়াল মাদ্রিদে এসেছিলেন সেই স্বপ্ন নিয়েই। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে মাত্র ছয় মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইতালির ক্লাব কোমোর সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হন, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ তাঁর জন্য একটি ‘বাই-ব্যাক’ ক্লজও রেখে দেয়। তখন কোচ ফ্যাব্রেগাসের তাসের বোর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘টেকনিক্যাল পিস’ হয়ে উঠেছেন এই আর্জেন্টাইন তরুণ। 

কোমোর মাঝমাঠে তিনি শুধু একজন মিডফিল্ডার নন; বরং একজন আধুনিক ফুটবল কন্ডাক্টর, যিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, উইঙ্গারদের নিখুঁত থ্রু-বল বাড়ান এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ডেডলক ভাঙেন। মূলত মাঝমাঠে নিকো পাজের এই রাজকীয় উপস্থিতিই ইতালির একটি সাধারণ ক্লাবকে রাতারাতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথা লেখার এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তর করেছে।

আরও পড়ুন

×