হাসানের দাপটের দিনেও ব্যাট হাতে বিপাকে বাংলাদেশ
ছবি- ইউসুফ আলী
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:৫৯
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বল হাতে দারুণ কাটলেও ব্যাট হাতে স্বস্তিতে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানের জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ ভাগে তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন জুটি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
শুক্রবার দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভসের জুটি ভাঙতে বেশি সময় নেয়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়ে হাসান মাহমুদ ফিরিয়ে দেন জাঙ্গুকে। ২১২ বলে ১৩৩ রানের ইনিংস খেলে বোল্ড হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও দুটি ছক্কা।
_1793962639.jpg)
এরপর রোস্টন চেইসকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট পান হাসান। পরপর দুই বলে উইকেটের সম্ভাবনা তৈরি করলেও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। জশুয়া বিশপ রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই ব্যাটার। লিটন দাসের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে হাসানের পঞ্চম শিকার হয়ে ফেরেন বিশপ। ২৫ বলে ২৩ রান করেন তিনি। তাতেই টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয় হাসানের। দেশের মাটিতে এটিই তার প্রথম পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও এখন তার দখলে। এতদিন চারবার করে পাঁচ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন হাসান ও শাহাদাত হোসেন। লাঞ্চের পর শামার জোসেফকে বোল্ড করে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ছয় উইকেট পেলেন এই পেসার।
_1793962660.jpg)
পরে শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস ৩৩ রান যোগ করেন। সিলসকে এলবিডব্লিউ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংসে বাংলাদেশের সফলতম বোলার হাসান। তার এই কীর্তির মধ্যে রয়েছে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে স্টাম্পিংয়ে উইকেট নেওয়ার নজির। পাশাপাশি নাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন দেশে প্রথম পাঁচটি পাঁচ উইকেটের কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ পান দুটি করে উইকেট। তবে তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান কোনো উইকেট পাননি।
_1793962712.jpg)
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে না পারায় ওপেনিংয়ে সুযোগ পান নাঈম হাসান। তবে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওপেন করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানেই ফেরেন নাঈম। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও ইনিংস বড় করতে পারেননি। জাস্টিন গ্রেভসের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন তিনি। ৩৩ বলে ১৬ রান করেন তানজিদ।
২২ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। শামার জোসেফের ১৪১ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ৬৫ বলে ১৮ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
_1793962752.jpg)
এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয়। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান এই তরুণ ব্যাটার। ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান ক্যারিবীয় স্পিনার। অন্যদিকে মুশফিকও একবার এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন থেকে বেঁচে যান আম্পায়ার্স কলে। দিন শেষে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৩৭ রান।
৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় দিনে তাদের জুটির ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা।