বিকল্প সুযোগ বিলিবিলি
সাব্বিন হাসান
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৭
ইউটিউব ছাড়াও নতুন প্ল্যাটফর্মে আয় ও দর্শক খুঁজছেন অনেক ডিজিটাল ক্রিয়েটর। নতুন করে এ তালিকায় হইচই ফেলেছে চীনের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলি। চীনের ইউটিউব খ্যাত পরিচিত এই প্ল্যাটফর্ম এখনও অনেক দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হয়নি। তবুও আগ্রহী অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিকল্প কৌশলে এতে কনটেন্ট তৈরি করছেন। প্রকাশ্যে এ বিষয়টি এসেছে এমন এক সময়ে, চীনের সঙ্গে যখন অনেক দেশের ব্যবসা ও যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। কিছুদিন হলো ইউটিউবের মনিটাইজেশন নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রে তাই জায়গা নিয়েছে বিলিবিলি।
কমিউনিটি হিসেবে যাত্রা
বিলিবিলির যাত্রা ২০০৯ সালে। প্রধানত কমিকস, অ্যানিমেশন ও গেমিং ঘরানার অনলাইন কমিউনিটির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর পথচলা শুরু। ক্রমে এতে আগ্রহীর সংখ্য়া বাড়ছে। অনেকের তৈরি ভিডিও ও কনটেন্টের জন্য এটি চীনে বেশ জনপ্রিয় ও সাড়া ফেলেছে। জনপ্রিয়তা এতটা দ্রুত বাড়তে থাকে যে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো কয়েকটি দেশে এই অ্যাপ সক্রিয় করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অনেকে দেশে এটি এখনও সক্রিয় হওয়ার অপেক্ষায়।
কনটেন্ট তৈরি করছেন ক্রিয়েটররা
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এর পরিষেবা না থাকলেও কিছু ক্রিয়েটর বিলিবিলির জন্য কনটেন্ট নির্মাণ করছেন। কয়েকজন ট্রাভেল ভ্লগার বলেছেন, তারা মাসখানেক আগে থেকে এই প্ল্যাটফর্মের জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন। অনেকে বলেছেন, এর মধ্যে অনেকে হাজারের বেশি ফলোয়ার ও কয়েক হাজার ভিউ পেয়েছেন।
অ্যাকসেস করবেন যেভাবে
এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার জন্য অনেকে অন্য ব্রাউজার, ক্রিয়েটর লোকেশন সেটিং পরিবর্তন, এপিকে এবং ভিপিএনের মতো বিকল্প কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এটি ব্যবহার করছেন এমন অনেকে বলছেন, তারা ফোনের লোকেশন সেটিং পরিবর্তন করে অন্য কোনো দেশ, বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের কোনো জায়গার লোকেশন অন করে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করেছেন।
ইউটিউবের নতুন নিয়মের ধাক্কা
মনিটাইজেশন ব্যবস্থায় ইউটিউবে হঠাৎ করে আনা পরিবর্তন ক্রিয়েটরদের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে অনেকটা বাধ্য করেছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুনদের ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ও প্রিমিয়াম রেভিনিউ প্রোগ্রামে প্রবেশাধিকার পেতে এক হাজার সাবস্ক্রাইবারের শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে এক বছরে আট হাজার কোয়ালিফায়েড পাবলিক ওয়াচ ঘণ্টা বা ৯০ দিনে দুই কোটি কোয়ালিফায়েড শর্টস ভিউজের প্রয়োজন হবে। আপাতত বিলিবিলিতে এমন ধরনের তেমন কোনো শর্ত নেই এখন।
বিকল্প আয়ের সুযোগ
কিন্তু বিলিবিলির সামনে এখনও রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরই মধ্যে ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো পরিচিত প্ল্যাটফর্মে বিশাল ক্রিয়েটর কমিউনিটি রয়েছে।
অনেক দেশে বিলিবিলি সক্রিয় হলে সেটি সরাসরি বিকল্পের বদলে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে আসছে। কিন্তু এই ভিডিও কনটেন্ট অ্যাপ কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় হয়নি। বিলিবিলির প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে শর্ট ড্রামা অ্যানিমেশন ও বিশেষ কিছু টিভি সিরিজের জন্য এটি জনপ্রিয়। আগ্রহীরা এখানে ভিডিও তৈরি করতে, দেখতে ও শেয়ার করতে পারবেন। চাইলে গুগল প্লেস্টোর থেকে সহজে ডাউনলোড করা যায়।
ক্রিয়েটরের বিকল্প
বর্তমানে কঠোর মনিটাইজেশন শর্ত না থাকায় নতুনদের জন্য কাজ শুরু করা ও আয়ের পথ সহজ করবে বিলিবিলি। সারাবিশ্বে (বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়) এটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হয়নি। তাই এই প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব ও আয়
সুবিশাল বৈশ্বিক দর্শক ভিত্তি ও স্বনামধন্য বিজ্ঞাপনী ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ মেয়াদে বড় আয়ের জন্য ইউটিউবই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই বহুল জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের কঠোর মনিটাইজেশন শর্তের চাপ নতুনদের জন্য বড় ধাক্কা। স্থায়ী ও বৈশ্বিক আয়ের জন্য ইউটিউব এগিয়ে থাকলেও নতুনদের জন্য প্রাথমিক বিকল্প আয়ের মাধ্যম হিসেবে বিলিবিলি নতুন ভরসা হতে পারে। দুটি প্ল্যাটফর্মের সুনির্দিষ্ট আয়ের হার (সিপিএম/ আরপিএম) রেভিনিউ শেয়ারিং পদ্ধতিতে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। ইউটিউব বিজ্ঞাপন আয়ের ৫৫ শতাংশ ক্রিয়েটরকে দেয়। নিজে রাখে ৪৫ শতাংশ। গড়ে হাজার ভিউর জন্য ক্রিয়েটর প্রকৃত আয় (আরপিএম) দুই থেকে সাত ডলার হয়। কিন্তু ফিন্যান্স বা টেকনোলজির মতো জনপ্রিয় ক্যাটেগরিতে এই হার হাজার ভিউতে ১০ থেকে ১৫ ডলার বা তার কিছুটা বেশি হতে পারে। বৈশ্বিক সংস্করণে ক্রিয়েটর ইনসেনটিভ বা ভিউপ্রতি প্রাথমিক আয়ের হার প্রতি হাজার ভিউতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৭০ সেন্ট (ডলার) হয়। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ক্রিয়েটর ইনসেনটিভ প্রোগ্রামে ক্যাশ রিওয়ার্ডের মাসিক সর্বোচ্চ সীমা ২৭৮ ডলারের কমবেশি হয়ে থাকে।
আয় করার কৌশল
বিলিবিলি ভিডিও ভিউ থেকে সরাসরি আয়ের সুযোগ কম। এর ক্রিয়েটররা প্রধানত স্পন্সরশিপ বা ব্র্যান্ড কোলাবরেশন (হুয়াহুও প্ল্যাটফর্ম), ফ্যান চার্জিং ও লাইভ স্ট্রিম ভার্চুয়াল গিফটের ওপর নির্ভর করে আয় করেন। এর মূল ফিচার ও পেমেন্ট ব্যবস্থার সুবিধা পেতে চায়নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও চায়নিজ ইউয়ান (আরএমবি) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন ধারার দর্শক ও স্পন্সরশিপ তৈরির জন্য বিলিবিলিকে বিকল্প ও সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি সামনে আসছে।
- বিষয় :
- ইউটিউব