ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

তথ্য সুরক্ষায় ৫ কৌশল

তথ্য সুরক্ষায় ৫ কৌশল
×

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৮

সারাবিশ্বে যেমন হাজারো অ্যাপের ছড়াছড়ি, তেমনই বাড়ছে ঝুঁকির ব্যাপকতা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকের অজান্তে প্রতারণার জাল বুনে চলেছে অপচক্র। আর এ চক্রের অন্যতম কৌশল হয়ে উঠেছে ডক্সিং। প্রথম দিকে একে সাধারণভাবে বিবেচনা করা হতো। এখন এ কৌশলকে হালকা করে দেখার আর অবকাশ নেই। নতুন ধারার এই কৌশলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকের তথ্য বাগিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় আর্থিক জালিয়াতি। অবশেষে তা ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক হেনস্তার পথে চলে যায়।

কী এই কৌশল

ড্রপিং ডক্স কথা থেকেই ডক্সিং শব্দের আগমন। হ্যাকার চক্রের পরিভাষায় ডক্স বা বিশেষ নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে গত শতকের নব্বই দশকে এর গোড়াপত্তন হয়। প্রধানত যে কারও অনুমতি না নিয়ে তার স্মর্শকাতর, গোপন ও জরুরি তথ্য ইন্টারনেটে সামনে এনে উন্মুক্ত করাকে বলা হয় ডক্সিং।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আগে ইন্টারনেটে বেনামে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাকার চক্রের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো। তবে চলতি সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত ফেসবুক বা এক্স (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারী এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষত, ডক্সিং পদ্ধতিতে প্রতিদিনই নতুন ও আলাদা কৌশল তৈরি করে সাইবার জালিয়াত চক্র।

অপচক্র বিশেষ কিছু কৌশলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কোনো টার্গেটের ব্যক্তিগত তথ্য বাগিয়ে নেয়। পরে তার গতিবিধি অনুসরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ নজরদারি, ফিশিং লিঙ্ক, সাইবার স্টকিং, আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিং, ডোমেইনের হু-ইজ সার্চ ও ডেটা ব্রোকারের সহায়তায় অনেকের কয়েকটি জরুরি তথ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সাধারণত অনেক ধরনের তথ্য নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর মধ্যে ব্যক্তির ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা অন্যতম। এ দুটি তথ্য জানার পর অবিরাম হয়রানিমূলক ডেলিভারি, স্প্যাম কল, হুমকি কিংবা সশরীর গিয়ে বিচলিত করার ঘটনাও ঢের ঘটেছে।

বিশেষ করে ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্যাদি থেকে, যেমন– ওটিপি কপি, অনুমোদন নেই এমন কেনাবেচা বা আর্থিক ক্ষতি করার পাঁয়তারা করা হয়। এতে অপচক্র সফল হয় বলেই এটি থামানো প্রায় অসম্ভব। থাকতে হবে সতর্ক।

সবার মৌলিক অধিকার

বিশ্বের অনেক দেশে ডক্সিং শব্দের বিরুদ্ধে এখনও আলাদা সুনির্দিষ্ট কোনো আইনের চর্চা হয় না। তবে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় এ চর্চার বিরুদ্ধে প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে বহু দেশে। অনেক দেশে এ ধরনের মামলায় আদালত বলেছেন, ডক্সিং পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনেক দেশের আইনে না থাকলেও এটি সবকটি দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত তথ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে।

যত্রতত্র ছড়ানো পরিচয়পত্র

অনেক কারণে অজ্ঞাতে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, যেমন– আইডেন্টিটি থেফটের মাধ্যমে ফেক ঋণ নেওয়া বা ট্যাক্স জালিয়াতির মতো অনেক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এমনটা ঘটেছে বিশ্বের বহু দেশে। ব্যক্তিগত ছবি ও বার্তা যেমন স্পর্শকাতর, তেমনি  জীবনের সঙ্গে জড়িত তথ্য ছড়ানোর ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা অপতথ্য ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে শত্রুতা, মতভেদ, বিরোধ কিংবা আর্থিক হয়রানির উদ্দেশ্য পূরণে দুর্বল সোশ্যাল মিডিয়াকে লক্ষ্য করা হয়।

কঠোর প্রাইভেসি সেটিংস

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সচেতনতাই প্রধান রক্ষাকবচ। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নিজের ফোন নম্বর, বাড়ির সঠিক অবস্থান বা রিয়েল টাইম লোকেশন শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব ধরনের, বিশেষ করে অনলাইনে আর্থিক অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস কঠোর রাখা ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সক্রিয় করা আবশ্যক। অজ্ঞাত ইমেইল বা অ্যাপের চ্যাটবক্সে আসা মেসেজের অজানা লিঙ্কে ক্লিক না করাই শ্রেয়। ডক্সিং বা ব্ল্যাকমেইলে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট বা লিঙ্ক সংরক্ষণ করে অনতিবিলম্বে স্থানীয় সাইবার সেল বা কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×