ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্মার্ট স্কুল ও এআইভিত্তিক প্রযুক্তির নমুনা প্রদর্শনী

স্মার্ট স্কুল ও এআইভিত্তিক প্রযুক্তির নমুনা প্রদর্শনী
×
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪৯

শ্রেণিকক্ষে বসেই বিশ্বের অন্য প্রান্তের শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ নেওয়া যাবে। শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে যাবে পাঠদানের ধরন। ঘরের কাজে সহায়তা করবে রোবট। সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে পরে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির এমন নানা ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনের প্রদর্শনীতে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে স্মার্ট স্কুল, আধুনিক বাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির নমুনা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্মার্ট স্কুলের মডেল। এতে দেখানো হয়, টাঙ্গাইল বা রাজশাহীতে বসেও শিক্ষার্থীরা বড়পর্দার মাধ্যমে বিশ্বের অন্য প্রান্তের শিক্ষকের ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। এআই শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদানের ধরন সাজাতে সহায়তা করবে। এতে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়তে পারে।

আধুনিক বাড়ির মডেলে দেখানো হয়, এআই ও রোবটের সহায়তায় কীভাবে দৈনন্দিন জীবন সহজ করা যায়। ‘স্মার্ট কানেকশন হাউস’ নামের এ প্রদর্শনীতে ঘরের বিভিন্ন কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরা হয়। জ্বালানি খাতের প্রদর্শনীতে ছিল সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তি। হুয়াওয়ের প্রদর্শনীতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ইনভার্টার এবং লিথিয়াম ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা দেখানো হয়। 
ডিজিটাল সংযোগ থেকে শিল্পে এআই
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সম্মেলনে শিল্প ও সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ও পণ্য পরিবহনে এ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর বিষয়ে কথা বলেন বক্তারা। তাদের মতে, এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, মানসম্মত তথ্য ও সহায়ক নীতিমালা।

সম্মেলনে ‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকেরা বলেন, ডিজিটাল সংযোগের সুফল শুধু ইন্টারনেটের আওতা দিয়ে বিচার করা যায় না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসায় মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনটি প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ-উল-বারী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তৈয়বুর রহমান। আলোচনায় টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বীমা ও সরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পাঁচ বছরে ১০ লাখ ডিজিটাল কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআইয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগ, প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।
 

আরও পড়ুন

×