ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে ইটভাটা

কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে ইটভাটা
×
×

কয়রার নকশা গ্রামের পাশে নদের চরে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটা - সমকাল

শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২২ | ০৪:২৩

কয়রায় নাব্য হারানো কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে তিনটি ইটভাটা। ড্রাম চিমনির এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া কোনোটিরই নেই পরিবেশের ছাড়পত্রসহ অনুমোদন।

উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের নাকশা গ্রামের পাশে এ তিনটি ইটভাটার মালিক জামায়াত নেতা সোহরাব মেম্বার, বড়দল গ্রামের ইট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও একরামুল হক সানা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে তাঁরা ইটভাটা স্থাপন করেছেন।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ অনুচ্ছেদ ৮-এর (গ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান ও জলাভূমি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ স্থানীয় মানুষের লিখিত অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, নাকশা গ্রামের পশ্চিম পাশে কপোতাক্ষের চরে প্রায় ১২ একর জমির ওপর সোহরাব ব্রিকস ফিল্ড, একরাম ব্রিকস ও একেএস ব্রিকস নামে তিনটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। চারপাশে মাটির বাঁধ দিয়ে বালু ফেলে চর ভরাট করে জমি উঁচু করা হয়েছে। এরপর খননযন্ত্র দিয়ে চরের মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। তিনটিতেই কাঠ পোড়ানো হয়।

প্রায় ৫ হাজার মানুষের গ্রামটিতে রয়েছে একটি আলিম মাদ্রাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে ইটভাটা তিনটি গড়ে উঠেছে, তার পাশেই রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবধাভোগীরা। তাঁরা জানান, ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে লোকজনের এলাকায় বসবাস করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি রাস্তাঘাটও অচল হয়ে পড়েছে।

আমাদী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল বলেন, বেআইনিভাবে নদীর চরে ভাটাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি ভাটা মালিকদের কাছে সরকারি জমি ইজারাও দিয়েছেন। ইটভাটার কারণে পার্শ্ববর্তী স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে সোহরাব ব্রিকস ফিল্ডের মালিক সোহরাব হোসেন বলেন, কপোতাক্ষের চরে বেশিরভাগ জমিই স্থানীয়দের কাছ থেকে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকায় বার্ষিক ইজারা নিয়েছেন। তবে ভাটার পশ্চিম পাশে নদীর কিছু জমি থাকতে পারে বলে জানান তিনি। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা তিনজন মালিক অনুমোদনের জন্য একসঙ্গে চেষ্টা করছেন।

খুলনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাইদ বলেন, কয়রার একটি ইটভাটার জন্যও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কয়রা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাইফুল্লাহ বলেন, নদনদী দেশের জাতীয় সম্পদ। যারা নদী ও এর আশপাশ দখল করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×