ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এক হাজার টাকার জন্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না শামীমের

এক হাজার টাকার জন্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না শামীমের
×

ভুক্তভোগী শামীম

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৪ মে ২০২৩ | ০৪:৩০

ফরম পূরণের বাড়তি ১ হাজার টাকা দিতে না পারায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারল না শামীম নামে এতিম শিক্ষার্থী। তার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র জাল করে অন্য এক ছাত্রকে পরীক্ষার টেবিলে বসানো হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাঘড়া দক্ষিণপাড়া ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরল হকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ঘাঘরা দক্ষিণপাড়া এলাকায়। বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার শেরপুর-ঝিনাইগাতী-নালিতাবাড়ি সড়কের কোয়ার রোড এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, জুলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শামীম চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঘাঘড়া দক্ষিণপাড়া ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করে। ছেলেটির বাবা আব্বাস আলী মারা গেছেন। দরিদ্র মা অনেক কষ্টে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এসএসসির ফরম পূরণের জন্য ৩ হাজার টাকা চান প্রধান শিক্ষক নূরল হক। অনেক কষ্টে ২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তাঁর হাতে দেওয়া হয়।

গত ২৯ এপ্রিল পরীক্ষার্থী শামীম প্রবেশপত্র আনার জন্য বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় ছেলেটিকে প্রবেশপত্র না দিয়ে তাড়িয়ে দেন প্রধান শিক্ষক। পরদিন ভুক্তভোগী জানতে পারে, আহম্মেদ নগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার পরিবর্তে আরেক ছাত্রকে পরীক্ষার টেবিলে বসিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নূরল হক। পরে এক সংবাদকর্মীকে নিয়ে সেখানে যায় ভুক্তভোগী। সেখানে গিয়ে জানা যায়, শামীম নামেই একজন পরীক্ষা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে আহম্মেদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও হল সুপার শরীফা বেগম বলেন, ‘আসলে আমরা তো প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে পরীক্ষার্থীকে হলে ঢুকতে দিই। রোল নম্বর দেখে আসনবিন্যাস করি। ওই ছাত্রের রোল নম্বর ৪৩১৪৫৯। প্রথম দিন ভুয়া পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে এলে ওই ছেলের চেহারার সঙ্গে প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ছবি মিলে যায়। এতে আমরা মনে করি, সে সঠিক পরীক্ষার্থী। স্বাক্ষর দেওয়ার সময় ওই ছেলে শামীম নামেই স্বাক্ষর দেয়।’

তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আসল পরীক্ষার্থী এক সাংবাদিক নিয়ে এসে বলে দাবি করে, সে আসল পরীক্ষার্থী। পরে ভুয়া পরীক্ষার্থীকে ডেকে এনে কক্ষে রেখে খাতা আনতে যান তিনি। এ সময় পালিয়ে যায় সে। পরদিন আর পরীক্ষা দিতে আসেনি।

বুধবার কোয়ার রোড এলাকায় মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগীর মা শিরিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘২ হাজার টাকা দিছিলাম নূরল বিএসসিকে। ১ হাজার টাকার জন্য আমারে ছেলেরে অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র) দেয় নাই। অহন আরেক ছেলেরে পরীক্ষায় বসাইছে। আমার ছেলেডার জীবন নষ্ট কইরা দিল নূরল। আমি তার বিচার চাই।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নূরল টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। তাঁরা প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, দু’দিন ধরে নূরল হক বিদ্যালয়ে আসেন না। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আল মাসুদ বলেন, প্রধান শিক্ষক নূরল ইসলাম জঘন্য কাজ করেছেন। প্রবেশপত্রসহ বেশকিছু কাগজপত্র জাল করে অন্য একজনকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে  অপরাধ করেছেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

তাঁর দাবি, স্থানীয় শিক্ষকরা তাঁকে জানিয়েছেন গত বছর একজন শিক্ষককে হল থেকে বরখাস্ত করেছিলেন তিনি। ওই শিক্ষক এই নূরল হক। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×