শ্রীমঙ্গলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কাশফুল
শ্রীমঙ্গলের বেলতলীর ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাশে নজর কাড়ছে কাশফুল। ছবি-সমকাল
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০
সবুজ চা বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি ছড়া। ছড়ার দুই পাশেই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে কাশফুলের বাগান। শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডের ছড়ার পাশে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা কাশ বাগানে শোভা পাচ্ছে কাশফুল। কাশফুলের শুভ্র চাদরে ছেয়ে গেছে এলাকা। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে বেলতলী সংলগ্ন ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাশে গড়ে উঠেছে কাশফুল বাগান। ভানুগাছ সড়ক ধরে খানিকটা সামনে এগোলেই বাংলাদেশ চা বাগান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। পাশেই উঁচু-নিচু টিলার মধ্যে চা বাগান। সবুজ চা বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি ছড়া। ছড়ার দুই পাশের বালুচরের সৃষ্ট হয়েছে বিশাল কাশ বাগান। সেখানে শুভ্র কাশফুল বাতাসে দোল খাওয়ার মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
শরৎকালে নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনার সঙ্গে কাশফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অন্যরকম এক আবেদন ছড়ায়। সে কারণেই প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে বেলতলীর কাশফুলের বালুচর। স্থানীয়রা ছাড়াও শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটক প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে।
গত শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকেই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ কাশবনে ঢুঁ মারছেন। কেউ তুলছেন ছবি। কেউবা হাত বুলিয়ে নিচ্ছেন কাশফুলে। অনেকে আবার মুক্ত বাতাসে পুরো বালুচর ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সড়কের পাশে ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে কাশফুলের সঙ্গে অনেক পথচারীকেও ছবি তুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কাশবনে ফুল ফুটতে শুরু করে। সেপ্টেম্বর মাসে সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে কাশফুলগুলো ঝরে যেতে শুরু করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে দর্শনার্থীর ভিড় লেগে যায়।
বিটিআরআই সংলগ্ন ছড়ার পাশে বালুচরের কাশবনে কাশফুল দেখতে এসেছেন রিক, প্রত্যয়, অরিন্দম, পায়েল ও পারমিতা। তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ‘শরৎ ঋতুর কথা মনে এলেই আমাদের চোখের কোণে ভেসে ওঠে ফুটন্ত সাদা কাশফুল। তা স্বচক্ষে দেখতেই এখানে আসা।’
দর্শনার্থী ইমন চৌধুরী ও দারাদ আহমেদ বলেন, ঋতু পরিক্রমায় বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। এ সময় রাশি রাশি কাশফুল তার অপরূপ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। আর এই সৌন্দের্য উপভোগ করতেই এখানে আসা।