‘এক দিন গতর না খাটালি খাবার জোটে না’
কয়রায় কপোতাক্ষ নদে চিংড়ির রেণু ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নীলিমা কয়াল সমকাল
শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০
কপোতাক্ষে তখন ভাটার টান। কিনারে দাঁড়িয়ে টানা জাল গুছিয়ে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নীলিমা কয়াল। কোমরসমান পানি ঠেলে প্রতিবার ১৫-২০ মিনিট জাল টানেন। এরপর ডাঙায় পাত্রে রাখেন জালে জমা আবর্জনা। পরে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু বাছাই করেন। এভাবে দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা পরিশ্রম করে ২০০-৩০০ টাকা আয় হয়। এ টাকায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ ও খাবারের ব্যবস্থা করেন।
নীলিমা কয়াল বলছিলেন, ‘দুই ছাওয়াল থাইকেও নেই। এদিক তাগের বাপও অসুস্থ, কাজ করবার মতো শক্তি নেই। আমি যদি একদিন গতর না খাটাই, তালি দু’জনেরই না খাইয়ে মরতি হবে।’ তিনি জানান, তাঁর স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর দুই বছরে রোগে আক্রান্ত হননি। অসুস্থ হলে দেখার কেউ ছিল না।
নদীর পাশে বাড়ি হওয়ায় নীলিমার মতো এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা বিশেষ ধরনের জাল টেনে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করছে। ফড়িয়ারা এসে রেণু কিনে নিয়ে যান। প্রতিটি রেণু বিক্রি হয় ১ টাকায়। প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের সময় বেশি রেণু পাওয়া যায়। রেণু সংগ্রহকারীরা জানান, সারা বছর কম-বেশি রেণু ধরা পড়ে। এসব ফড়িয়ারা কিনে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন।
ফড়িয়া আসাদুল হক জানান, এলাকার মানুষ বংশ পরম্পরায় এ পেশায় যুক্ত। অন্য কাজও করেন। এখন চাল-ডালের দাম বাড়লেও রেণুর দাম বাড়েনি। এতে মানুষের সংসার চলছে টেনেটুনে। এর মধ্যে নীলিমা কয়াল বেশি অসহায়।
গাজীপাড়া গ্রামের কল্পনা মণ্ডল জানান, সাত সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ স্বামীর পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই তিনিও জাল টানেন। এতে তিন বেলার খাবার জুটলেও সঞ্চয় থাকে না। সন্তানদেরও লেখাপড়া করানো হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গণেশ মণ্ডল বলেন, গ্রামের মানুষের একদিন রেণু না ধরলে সংসার চলে না। প্রায় সবার ভিজিডি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে তারা ৩০ কেজি করে চাল পান। তবে দৈনন্দিন আয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না অনেকে।
ইউএনও মমিনুর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের জন্য সরকারিভাবে যা করা যায়, তা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাদের জন্য কাজ করছে।
- বিষয় :
- খুলনা
- বাগদা ও গলদা চিংড়ি
- কপোতাক্ষ নদ
- আয়