ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে হামলায় আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু

কক্সবাজারে হামলায় আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু
×

ফাইল ছবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ | ২১:২৩

কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহিম উদ্দিন সিকদার মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের এভার কেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

নিহতের ভাই ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় ফাতেরঘোনা ইউনিট জামায়াতের সভাপতি আব্দুল আল নোমানের নেতৃত্বে ওই হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রহিম সিকদার ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। রোববার পানিরছরা এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে আহত আরও দু'জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামের একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

শফিকুর বলেন, গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ভারুয়াখালী ইউনিয়নের এক প্রবাসীর জমি কক্সবাজার  জামায়াত নেতা আব্দুল আল নোমানের নেতৃত্বে দখলের চেষ্টা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসীর পরিবার কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কিছুদিন আগে পুলিশ তদন্তে যায়। পুলিশ কর্মকর্তার অনুরোধে উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হয়। এ সময় নোমানরা জমিতে আর যাবেন না বলে পুলিশকে মুচলেকা দেন। 

শফিকুর বলেন, এ ঘটনার জের ধরে হামলাকারীরা আমার ও আমার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। গত রোববার আমার চাচাত ভাই জাহেদ সিকদার পার্শবর্তী পানিরছরা এলাকায় গেলে নোমানের নেতৃত্বে তার মোটরসাইকেল ভাংচুর ও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আমার ভাইপো ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাকিব সিকদার, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রহিম সিকদার, শাহিন সিকদার ও জসিম সিকদার ঘটনাস্থলে যান। ওখানে তাদের ওপরও হামলা হয়। এ সময় হামলাকারীরা রহিম ও সাকিবের মাথায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। শাহিনের হাতে দা দিয়ে কোপায় ও জসিম সিকদারকে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাকিব, রহিম ও শাহিনকে চট্টগ্রামে পাঠান চিকিৎসক। সেখানে রহিম ও সাকিবের মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং শাহিনের হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। গতকাল রহিম মারা যান এবং সাকিব আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

শফিকুরের অভিযোগ, স্থানীয় ফাতেরঘোনা ইউনিট জামায়াতের সভাপতি আব্দুল আল নোমান, জামাই মিজান, মুজিব, এনামরা হামলা চালিয়েছিল। 

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা জামায়াতের আমির খোরশেদ আলম বলেন, আব্দুল আল নোমান নামের কেউ সদর উপজেলার কোনো ইউনিটে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, এটি মসজিদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ। রাজনৈতিক কোনো বিরোধ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারী যদি জামায়াতের হয়েও থাকেন, তিনি সেখানে মুসল্লি হিসেবে গেছেন; জামায়াতের কেউ হিসেবে যাননি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। স্থানীয় জমি বিরোধের ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ মেশানো উচিত নয়। 

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস খান বলেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত মিজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জড়িতের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

×