টিফিনের টাকায় সবুজের স্বপ্ন
বিতরণের জন্য পিকআপে করে গাছের চারা নিয়ে ছুটছেন শ্রীমঙ্গলের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা সমকাল
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি টিফিনের টাকা, যা সাধারণত ক্ষণিকের ক্ষুধা মেটাতে ব্যয় হয়, সেই সামান্য অর্থই যখন শত শত গাছের চারায় রূপ নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
মৌলভীবাজারে শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা জমিয়ে পরিচালিত সবুজ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ।
গতকাল শনিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের জাকান্দি গ্রামে সংগঠনটির উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিশু-কিশোর, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুদের মাঝে প্রায় ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পুরো এলাকায় নিম ও আমগাছের চারা রোপণ করা হয়। এ ছাড়া জাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের হাতে আরও ৪০টি চারা তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা
তুলে ধরে বলেন, একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না; এটি বিশুদ্ধ অক্সিজেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং সেটির সঠিক যত্ন নেওয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক, স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিনিধিরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাম্মাদ নূর-ই সাদী, অর্থ সম্পাদক তানজিন হোসেন, অনুষ্ঠান ও আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক রেদুয়ান আহমদ এবং সদস্য প্রীতম, মুগ্ধসহ অন্য কর্মীরা।
জানা যায়, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সদস্যরা সবাই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। নিজেদের টিফিনের টাকা সঞ্চয় করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সচেতনতা, পথশিশুদের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এবার সেই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হলো পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের এমন সচেতনতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তাদের এই কার্যক্রম অন্য তরুণদেরও সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
সংঘের সদস্যরা বলেন, শখের বসে শুরু করলেও তাদের এমন কাজগুলো এখন সদস্যদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশ ও মানুষের জন্য ক্ষুদ্র সামর্থ্যের সবটা উজাড় করে দিয়ে তারা কাজ করতে চান। একটি জীবন, একটি মুখের হাসির জন্য তাদের এই নিবেদন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের তাদের পাশে থাকলে নতুনের ধারায় পুরাতন সব জটিলতা মুখে দিতে চান তারা। সাধারণ মানুষও তাদের এমন সমাজ উন্নয়ণমূলক কাজে সহযোগিতা দিচ্ছে
- বিষয় :
- গাছের চারা