ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগের পর আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু

বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগের  পর আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার
×

 হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা মোনায়েম হোসেনকে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কালীশংকরপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ছমির উদ্দিনের দোতলা বাড়িতে এ তাণ্ডব চালানো হয়। 
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মোনায়েম হত্যা মামলার জেরে বিএনপির সমর্থকরা এ হামলা চালায়। এদিকে পুলিশ বলছে, ছমিরের বাড়িতে সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে গোপন বৈঠক হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘেরাও করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ছমিরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।  

ছমির উদ্দিন ভায়না ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। 
ছমির উদ্দিনের মেয়ে কুষ্টিয়া জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মনিরা সানজিদা বলেন, হামলার সময় তাঁর বাবা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অবরুদ্ধ ছিলেন। রাত ১০টার দিকে পুলিশ এসে তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর থানায় নিয়ে যায়।

মনিরা সানজিদার দাবি, হামলার সময় তাঁর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করা হয়। বাড়ির আসবাবসহ মালপত্র লুট ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের স্বজন ও সমর্থকদের অন্তত ৩০টি বাড়ি থেকে গরু-ছাগল ও আসবাব লুট করা হয়েছে।

মনিরা সানজিদা আরও বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর তাঁর চাচা ইউপি সদস্য মোনায়েম হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মোনায়েম (৫২) একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইউপি সদস্য এবং ভায়না ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির সমর্থক বোরহান, ইউনুস, আমজাদসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর পর থেকে আসামিরা তাঁর বাবা ছমিরকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাঁর দাবি, ওই আসামিদের নেতৃত্বেই গত শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাঁর ভুক্তভোগী বাবাকেই নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়ি গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, ছমির উদ্দিনের বাড়িতে সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে গোপন বৈঠক হচ্ছিল। এ সময় খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িটি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করে পুলিশ।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, পরে ছমিরসহ আটজনকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালতের মাধমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×