মানবতার সেবায় স্টুডেন্টস কেয়ারের এক যুগপূর্তি
সাম্প্রতিক বন্যায় ত্রাণ হাতে ছুটছে জগন্নাথপুরের স্টুডেন্টস কেয়ারের সদস্যরা ফাইল ছবি
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একঝাঁক নিবেদিত প্রাণ শিক্ষার্থীর হাত ধরে সুনামগঞ্জে যাত্রা শুরু করেছিল স্টুডেন্টস কেয়ার জগন্নাথপুর নামের একটি সামাজিক সংগঠন। এরপর গত ১২ বছরে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অর্জন করেছে ভালোবাসা ও আস্থা।
আজ রোববার স্থানীয়দের ভালোবাসার এই সংগঠনটির এক যুগপূর্তি উৎসব উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে স্থানীয় পৌরভবনের সামনে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের।
সংকটে, বন্যায়, শীতে কিংবা করোনাকালীন দুর্যোগের পাশাপাশি বিগত ১২ বছরের আর্ত-সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানুষের কাছে মানবিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ।
স্টুডেন্টস কেয়ারের সদস্যরা জানান, ২০১৪ সালে যখন এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়, তখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী একত্র হয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য কিছু করা। দেখতে দেখতে এক যুগ পার হয়ে গেছে। সেই ২৫ জনের দলটি বর্তমানে দেড় শতাধিক মানবিক মানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার বসানো আর সচেতনতার সাইনবোর্ড টানানো দিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের গল্প। এরপর তারা আর থেমে থাকেনি। সবুজ সাথী প্রজেক্ট ১-এর আওতায় উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছায়া সুনিবিড় গাছ লাগিয়েছে এই তরুণরা।
করোনার সময়ে যখন মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পেত, তখন এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন মাস্ক, স্যানিটাইজার আর খাদ্যসামগ্রী। সুনামগঞ্জের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বুক পানি ভেঙে এই তরুণরা দুর্গত মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন ত্রাণসামগ্রী।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, যখন স্বপ্ন দেখেছিলেন, তখন ভাবতে পারেননি এই বন্ধন এতটা মজবুত হবে।
- বিষয় :
- ত্রাণ সামগ্রী