ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-চামটা সড়ক

গর্তে পড়ে কাত হয়ে যায় যানবাহন

গর্তে পড়ে কাত হয়ে যায় যানবাহন
×

কিশোরগঞ্জ-চামটা সড়কে বিশাল গর্তে জমে আছে পানি। গত শনিবার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার এলাকায়। ছবি: সমকাল

মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২১

সড়কটি বেহাল বহুদিন ধরে। বহু জায়গায় দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থীকেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার শিক্ষার হচ্ছেন, জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আফসোসের সুরে কথাগুলো বলেন করিমগঞ্জের রৌহা গ্রামের আলহাজ এরশাদ উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহজাহান। তাঁর বাড়ি উপজেলার নিয়ামতপুর এলাকায়।

নিয়ামতপুরের সামান্য পূর্বে হাওরাঞ্চল থেকে কিশোরগঞ্জে আসার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত চামটাঘাট। প্রতিদিন শত শত নৌযানে করে হাজারো হাওরবাসী আসেন এখানে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ কিশোরগঞ্জ-চামটা (স্থানীয়ভাবে চামড়া) নৌ বন্দর সড়ক ধরে যাতায়াত তাদের। এই সড়কের অনেক অংশ বেহাল দীর্ঘদিন। বিশেষ করে নিয়ামতপুর বাজারের আগে-পরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক।

গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, সাকুয়া থেকে নিয়ামতপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের অনেকটা জায়গাজুড়ে ডোবার মতো গর্ত। মাঝে মধ্যে যানবাহনের চাকা দেবে আটকে যায়। যাত্রীদের তখন নেমে অনেক জায়গা হেঁটে পার হতে হয়। কখনও কখনও এসব যানবাহন নিয়ামতপুরের অংশ এড়িয়ে দক্ষিণ দিকে বালিখলা সড়কে ঢুকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে আসে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি খরচও গুনতে হয়।

এই সড়কের কিশোরগঞ্জ প্রান্তে সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) আরসিসি ঢালাই দিয়ে সংস্কার করেছে। তবে অনেক জায়গার অবস্থা নিয়ামতপুরের মতোই। সওজ বিভাগ সূত্র জানায়, এই সড়কটি একটি প্রকল্পের আওতায় প্রশস্ত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের টাকাও বিতরণ হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে তারা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।
ইটনার এলংজুড়ির বাসিন্দা সুমন মিয়া কিশোরগঞ্জ-চামটা বন্দর সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, আনুমানিক ৭ বছর ধরে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে আছে। কারও কোনো নজর নেই। তাদের অটোরিকশা প্রায় কাত হয়ে পড়ে যায়। যাত্রীরা আহত হন। নষ্ট হয় যন্ত্রাংশ। এতে বাড়তি খরচ হয়।

নিয়ামতপুরের অটোরিকশাচালক মো. মুস্তাকিম বললেন, এই রাস্তা দিয়ে রোগীদের নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। সুস্থ মানুষও যদি সাত দিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, তাহলে হাড়ভাঙার ডাক্তার দেখাতে হবে।

নিয়ামতপুর বাজারটি আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারের আশপাশে যানবাহনের উপস্থিতি বেশি থাকে বলে এমনিতে প্রায় যানজট তৈরি হয়। এখন খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলোকে এক সারিতে যেতে হয়। যে কারণে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। মুড়িকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এরফান মিয়ার দোকান রয়েছে নিয়ামতপুর বাজারে। তিনি বলেন, নিয়ামতপুর বাজারের কাছে রাস্তাটি বেশি খারাপ। অনেকটা জায়গা পুকুরের মতো হয়ে আছে। এখানে এসে যানবাহনগুলো দুই সারিতে যেতে পারে না।

গত শনিবার জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জ-চামটা বন্দর সড়ক এবং এই সড়কের ছয়না থেকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত পর্যন্ত সাত কিলোমিটার বাইপাস সড়কের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কাজগুলো পাঁচ স্তরে বিভক্ত ছিল। এর জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করে চার স্তরের কাজ সম্পন্নও হয়েছে। কিন্তু নিয়ামতপুর এলাকা থেকে চামটা বন্দর পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার জায়গার কাজ বাকি আছে। রাস্তাটি বর্তমানে সাড়ে ৫ মিটার চওড়া। নতুন প্রকল্পে তা ৯ দশমিক ৭ মিটার চওড়া। এর জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের টাকাও সড়ক বিভাগ জেলা প্রশাসনকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনও করা হয়েছে। আবেদনটি পরিকল্পনা কমিশনে বিবেচনাধীন। 

আরও পড়ুন

×